আন্তর্জাতিক: মে ২৬: জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, জাপানের ‘একচেটিয়া আত্মরক্ষা’ নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং জাপানের ‘নব্য সামরিকবাদ’ সম্পর্কে চীনের বক্তব্য সঠিক নয়। এই প্রসঙ্গে আজ (মঙ্গলবার) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, জাপান মুখে কী বলছে তা দেখার চেয়ে তারা বাস্তবে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেদিকেই বেশি নজর দেওয়া উচিত।
মুখপাত্র উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান সরকার ক্রমাগত তাদের সামরিক বাজেট বাড়িয়ে চলেছে, মারাত্মক অস্ত্রের রপ্তানি নীতি শিথিল করেছে, একের পর এক যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের প্রক্রিয়া জোরদার করছে। এর পাশাপাশি তারা সক্রিয়ভাবে আক্রমণ করতে সক্ষম তথাকথিত ‘পাল্টা আঘাতের ক্ষমতা’ তৈরি করছে, বিপুল পরিমাণে সংবেদনশীল পারমাণবিক সামগ্রী মজুত করছে, দেশের শান্তি সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং একটি ‘যুদ্ধ করতে সক্ষম’ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে।
এভাবে জাপান ক্রমাগত আন্তর্জাতিক আইন এবং নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইনের সব বিধিনিষেধ ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছে। একে কি আসলেই ‘একচেটিয়া আত্মরক্ষা’ নীতি অপরিবর্তিত রাখা বলা চলে? মুখে এক আর কাজে আর এক—এমন দ্বিমুখী আচরণ জাপানের ‘পুনরায় সামরিকীকরণ’ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, তা কোনোভাবেই দূর করতে পারবে না।
মাও নিং জোর দিয়ে বলেন, অতীতে জাপানি সামরিকবাদ বিশ্বের বুকে যেমন ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছিল, তেমনি জাপানের সাধারণ মানুষের জন্যও চরম দুর্ভোগ তৈরি করেছিল। আজকের এই ‘নব্য সামরিকবাদও’ একইভাবে একটি আত্মঘাতী পথ। চীন জাপানকে ইতিহাসের সেই কঠিন শিক্ষা থেকে শিক্ষা নেওয়ার, নিজেদের শান্তির প্রতিশ্রুতি কঠোরভাবে মেনে চলার এবং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে এশিয়ার প্রতিবেশী দেশসমূহ ও আন্তর্জাতিক সমাজের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানাচ্ছে।
সূত্র: শুয়েই-তৌহিদ-জিনিয়া,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।