আন্তর্জাতিক: অসীম মহাবিশ্বকে জানার মানবজাতির প্রচেষ্টা অবিরাম। এক্ষেত্রে মানবজাতি সামনে এগিয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে। দেশ হিসেবে চীনও পিছিয়ে নেই। শেনচৌ-২৩ মনুষ্যবাহী মহাকাশযানের সফল উত্ক্ষেপণের মাধ্যমে, চীনা নভোচারীদের একটি দল, গত ২৫ মে চীনের মহাকাশকেন্দ্রে প্রবেশ করে। এদিন থিয়েনকুং নামের এই মহাকাশকেন্দ্রে, বিগত ৬ মাস ধরে অবস্থানরত তিন নভোচারী, নতুন তিন নভোচারীকে স্বাগত জানান। তাঁরা বিশেষভাবে স্বাগত জানান, প্রথম বারের মতো চীনের মূল ভূভাগের বাইরে থেকে আসা, হংকংয়ের নভোচারী লি চিয়া ইং-কে। এই অর্জন কেবল লি চিয়া ইংয়ের ব্যক্তিগত পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত গৌরব নয়, বরং ৭০ লাখেরও বেশি হংকংবাসীর গর্ব এবং ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’-র অনুশীলনের ফলে অর্জিত সুফল। এ থেকে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’-র শক্তিশালী প্রাণশক্তি ও উল্লেখযোগ্য সুবিধাসমূহ আবারও প্রমাণিত হয়।
হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন লি কা-চিউ বলেছেন, চীন ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনায়’ স্পষ্টভাবে, আধুনিক শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মহাকাশ-গবেষণায় চীনকে শক্তিধর দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে, দেশের জোরালো সমর্থনে, হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল, জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচির ‘সমর্থক’ থেকে ‘কার্যনির্বাহকে’ পরিণত হতে পেরেছে। এটি কেবল জাতীয় মহাকাশ শক্তির বিকাশে হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের অবদানকে প্রকাশ করে না, বরং এটি দেশের উন্নয়নের সার্বিক পরিস্থিতিতে হংকংয়ের আরও ভালোভাবে একীভূত হওয়া ও সেবা করার সর্বোত্তম অনুশীলনও বটে।
‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির সুবিধার আওতায়, হংকং ও ম্যাকাও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ভেঙে, প্রতিভা বিনিময় সহজতর করেছে। স্থানীয় গবেষক ও বিজ্ঞানীরা ব্যাপক ও গভীরভাবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণ করছেন এবং মহাকাশ কর্মসূচির বিকাশের সুফল ভাগ করে নিচ্ছেন। লি চিয়া ইংয়ের মহাকাশ স্বপ্ন পূরণের পথ ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতি অনুশীলনের উর্বর ভূমিতে প্রোথিত। বস্তুত, মাতৃভূমির সমৃদ্ধ বিকাশ, হংকং ও ম্যাকাওয়ের বাসিন্দাদের জন্য, এক বিস্তৃত বিকাশের পরিসর উন্মোচিত করেছে, যা তাদের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করে নিজেদের মূল্য অর্জনে সহায়তা করছে।
‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ হংকং ও ম্যাকাওকে অনন্য উন্নয়নের সুবিধা দিয়েছে। এই নীতির ফলে, এই দুটি বিশেষ অঞ্চল, নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার পাশাপাশি, দেশের উন্নয়নের সার্বিক পরিস্থিতিতে আরও ভালোভাবে একীভূত হয়ে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছে। পূর্বের বাণিজ্যিক আদান-প্রদান, বিনিয়োগ ও নির্মাণ, জনগণের জীবনযাত্রাকে একীভূত করা থেকে শুরু করে, বর্তমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা, গভীর মহাকাশ অভিযান পর্যন্ত, জাতীয় উন্নয়নে হংকং ও ম্যাকাওয়ের অংশগ্রহণের পরিধি নিরন্তর প্রসারিত হচ্ছে এবং বিকাশের স্থান ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এবার হংকং থেকে আসা একজন নভোচারীর জাতীয় মহাকাশ অভিযানে অংশগ্রহণ, হংকং ও ম্যাকাওয়ের বিকাশের সম্ভাবনা সম্পর্কে বহির্বিশ্বের ধারণাকে, নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।
মহাকাশ কর্মসূচি একটি জাতীয় ঐক্যের মহৎ উদ্যোগ। প্রতিটি মিশন, প্রতিটি উড্ডয়ন—সবকিছুতেই হংকং ও ম্যাকাওয়ের বাসিন্দারাসহ সমগ্র দেশের জনগণের প্রত্যাশা মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। তিন সন্তানের মা হিসেবে লি চিয়া ইং কেবল সন্তানদের প্রতি গভীর স্নেহ পোষণ করেন না, বরং তাদেরকে ভালো শিক্ষায় শিক্ষিত করার দায়িত্বও বোধ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের সংসার একটি ‘ছোটো পরিবার’, আর আমাদের দেশ একটি ‘বড়ো পরিবার’। ‘ছোটো পরিবারের’ প্রতি গভীর আবেগ ও মমতাকে গভীরভাবে ‘বড়ো পরিবার’-এর সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।” হংকংয়ের একজন অধিবাসী হিসেবে, তিনি নিজের সংগ্রামী অভিজ্ঞতা দিয়ে তরুণ-তরুণীদের উত্সাহিত করেন এবং নিজের অগ্রগতি দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, হংকং ও ম্যাকাওয়ের তরুণ-তরুণীদের অভিযাত্রাও এক নক্ষত্রখচিত মহাসমুদ্রে অভিযাত্রার মতো।
‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতি মনে রেখে, দেশপ্রেম ও গৃহপ্রীতি সহকারে, সুদূর দিগন্তে যাওয়ার আনন্দ অন্যরকম। দেশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ক্রমাগত নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে, হংকং ও ম্যাকাও নিঃসন্দেহে অব্যাহত ও গভীরভাবে, জাতীয় উন্নয়নের সার্বিক পরিস্থিতিতে একীভূত হবে এবং দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করবে। আরও বেশি হংকং ও ম্যাকাওয়ের প্রতিভা আরও বিস্তৃত উন্নয়নের মঞ্চে আরোহণ করবেন। এই দীপ্তিমান প্রাতিষ্ঠানিক তারার আলো, চীনের গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের সঙ্গী হবে এবং মানব মহাকাশযাত্রার উন্নয়নে এক অনন্য চীনা দীপ্তিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। এমন আশা সকল চীনা নাগরিকের। এই আশা পূরণ হতেই হবে।
সূত্র:আনন্দী-আলিম-স্বর্ণা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।