সোমবার, মে ২৫, ২০২৬
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   আন্তর্জাতিক
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন বার্তা এপেকের
  Date : 25-05-2026
Share Button

 

আন্তর্জাতিক: মে ২৫: গত শনিবার, চীনের চিয়াংসু প্রদেশের সুচৌ শহরে ২০২৬ সালের এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন অর্থাত্ এপেকের বাণিজ্যমন্ত্রীদের সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে। এই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ ‘১+১’ (একটি যৌথ বিবৃতি+একটি নতুন পরিষেবা বা সেবা খাতের রোডম্যাপ) সুনির্দিষ্ট ফলাফলে উপনীত হয়েছে, যা বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এপেকের নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সম্মেলন-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ভিত্তি স্থাপন করেছে। সিএমজি সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে।

চলতি বছর চীনের এপেকে যোগদানের ৩৫তম বার্ষিকী এবং এটি তৃতীয়বারের মতো চীনের এপেকের স্বাগতিক দেশ হওয়ার গৌরব। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে সহজেই বোঝা যায় যে, কেন সব পক্ষ এই এপেকের ‘চীন বর্ষের’ ওপর এত বড় আশাবাদ ব্যক্ত করছে।

আজকের বিশ্ব একদিকে যেমন নানা দ্বন্দ্বে জর্জরিত, অন্যদিকে একতরফাবাদ ও সংরক্ষণবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যার ফলে বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.১% করেছে এবং চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই বৃদ্ধির হার ২%-এ নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

এই সংকটময় মুহূর্তে, বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিকের ২১টি অর্থনীতি এক টেবিলে বসে বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার "ভবিষ্যৎ অভিমুখ" নিয়ে গভীর আলোচনা করেছে। এই আলোচনার ভিত্তিতে অর্জিত একটি যৌথ বিবৃতি এবং একটি নতুন সংস্করণের সেবা খাত রোডম্যাপের সমন্বয়ে গঠিত ‘১+১’ সুনির্দিষ্ট ফলাফল তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে চীন সর্বদা এপেকের প্রতিটি খাতের সহযোগিতায় গভীরভাবে অংশ নিয়ে আসছে। গত বছর অনুষ্ঠিত এপেকের ৩২তম অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেছিলেন: "আমাদের উচিত উন্মুক্ত উন্নয়নের মাধ্যমে সুযোগের অংশীদার হওয়া, পারস্পরিক জয়-জয় পরিস্থিতি নিশ্চিত করা, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এগিয়ে নেওয়া এবং একটি এশিয়া-প্যাসিফিক কমিউনিটি গঠন করা।"

চলতি বছর এপেকের ‘চীন বর্ষের’ তিনটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে: ‘উন্মুক্তকরণ, উদ্ভাবন ও সহযোগিতা’। এই মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের চূড়ান্ত ফলাফলে চীনের প্রস্তাব ও দৃষ্টিভঙ্গিগুলো ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এটি কেবল এপেকের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতায় নতুন গতিই সঞ্চার করেনি, বরং চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়নের নতুন অর্জনের মাধ্যমে এশিয়া-প্যাসিফিক এবং সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের সদিচ্ছা ও দায়িত্ববোধকে ফুটিয়ে তুলেছে।

এপেক বরাবরই উদ্ভাবন-চালিত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে আসছে। ২০২৫ সালে চীনের ডিজিটাল অর্থনীতির মূল শিল্পগুলোর মূল্য সংযোজন দেশটির জিডিপির ১০.৫% ছাড়িয়ে গেছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের মূল বাজার মূল্য ১.২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান অতিক্রম করেছে। চীনের এই উন্নয়নমূলক সুবিধাগুলো অন্য সব এপেক সদস্যের অর্থনীতির জন্য বিশাল সুযোগ নিয়ে আসছে।

এই সম্মেলনের একটি বর্ধিত অংশ হিসেবে আয়োজিত `সুচৌ গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন কনফারেন্সে` দক্ষিণ কোরিয়ার এস অ্যান্ড এস টেক কর্পোরেশনের ওভারসিজ বিজনেস রিপ্রেজেন্টেটিভ জং ইল-দু বলেন, "আমাদের কোম্পানি যখন প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আমরা চীনকেই বেছে নিয়েছিলাম। এর কারণ হলো আমরা চীনের `ডিজিটাল বুদ্ধিমত্তা উত্পাদন` মডেলের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখি। আমরা চীনের এই শক্তিশালী উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেমের সাথে গভীরভাবে যুক্ত হতে অত্যন্ত আগ্রহী।"

সূত্র:শুয়েই-তৌহিদ-জিনিয়া,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।



  
  সর্বশেষ
চীন সফরকে ‘ঐতিহাসিক` আখ্যা দিলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন বার্তা এপেকের
সভ্যতার সংলাপ ও শান্তির বার্তা নিয়ে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক আল-আনানির
‘চীন পাকিস্তানের বিশ্বস্ত বন্ধু`— বেইজিং বৈঠকে শাহবাজ শরীফ

প্রকাশক ও সম্পাদক : ফাতেমা ইসলাম তানিয়া
সম্পাদক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরেরপুল ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ।
২১৯ ফকিরেরপুল (১ম গলি ২য় তলা), মতিঝিল ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত । মোবাইল : ০১৮৩৪-৮৯৮৫০৪ ই-মেইল :
E-mail : alordiganto2021@gmail.com