আন্তর্জাতিক: মে ২৭: গত ২৬ মে (মঙ্গলবার) দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের হাইড পার্ক শপিং সেন্টারের নু মেট্রো সিনেমা হলে ‘সিল্ক রোড সিনেমা’ শীর্ষক চীনা চলচ্চিত্রের বৈদেশিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব উদ্বোধন করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত উ পেং, দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, প্রবাসী চীনা ও তরুণ শিক্ষার্থীসহ শতাধিক প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এই অনুষ্ঠানটি চীনের জাতীয় চলচ্চিত্র প্রশাসনের সমর্থনে চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) আয়োজন করেছে। এটি ‘২০২৬ চীন-আফ্রিকা সাংস্কৃতিক বিনিময় বর্ষের’ কাঠামোর আওতায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি। অনুষ্ঠান চলাকালে ২০২৬ সালের শুরুর দিক থেকে চীনা বক্স অফিসে সেরা দুটি চলচ্চিত্র—‘পেগাসাস ৩’ (飞驰人生3 Pegasus) ও ‘ব্লেড অফ দ্য গার্ডিয়ানস’ (镖人:风起大漠 Blades of the Guardians) প্রদর্শিত হয়, যা চীনা চলচ্চিত্র শিল্পের প্রাণবন্ত বিকাশ ও চীনা সংস্কৃতির আকর্ষণীয় রূপ তুলে ধরে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত উ পেং
দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত উ পেং তাঁর ভাষণে বলেন, ২০২৬ সাল চীন-আফ্রিকা কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৭০তম বার্ষিকী এবং উভয় পক্ষের নির্ধারিত ‘চীন-আফ্রিকা সাংস্কৃতিক বিনিময় বর্ষ’। ‘সিল্ক রোড সিনেমা’ নামে চীনা চলচ্চিত্রের বৈদেশিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠান হলো চীন ও আফ্রিকার নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বাস্তবায়ন এবং চীন-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। দক্ষিণ আফ্রিকা হচ্ছে আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র বাজার এবং এটি চীনা চলচ্চিত্রগুলোকে আফ্রিকার দর্শকদের কাছে চীনা সংস্কৃতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা হিসেবে কাজ করছে।
চায়না মিডিয়া গ্রুপের আফ্রিকা ব্যুরোর পরিচালক সোং চিয়া নিং
চায়না মিডিয়া গ্রুপের আফ্রিকা ব্যুরোর পরিচালক সোং চিয়া নিং বলেন, চীনের আন্তর্জাতিকভাবে অন্যতম প্রভাবশালী গণমাধ্যম হিসেবে চায়না মিডিয়া গ্রুপ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীনা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সংস্কৃতির বিনিময় ও সহযোগিতা গভীর করার উদ্দেশ্যে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত ১৮ মে পর্যন্ত, ২০২৬ সালে চীনা চলচ্চিত্রের বক্স অফিস আয় ১৪.৫ বিলিয়ন ইউয়ান (রেনমিনবি) ছাড়িয়ে গেছে, যা চীনা চলচ্চিত্র বাজারের শক্তিশালী প্রাণশক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রতিফলন। আশা করি, ‘পেগাসাস ৩’ ও ‘ব্লেডস অব দ্য গার্ডিয়ানস’—এই দুটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফ্রিকান দর্শকরা সমকালীন চীনকে আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন, চীনা সংস্কৃতির আকর্ষণ অনুভব করতে পারবেন এবং চলচ্চিত্রের এই সর্বজনীন ভাষার মাধ্যমে বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে আবেগিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে পারবেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবীণ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জন বেইলি ভাষণ দেন
দক্ষিণ আফ্রিকার ‘সানডে ওয়ার্ল্ড’ ও ‘সানডে সান’ পত্রিকার মালিক ও প্রকাশক জন বেইলি তাঁর ভাষণে বলেন, সংস্কৃতি হলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রাণ, আর চলচ্চিত্র হলো একে অপরের গল্প বলার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। ‘সিল্ক রোড সিনেমা’ কেবল বিনোদনের অভিজ্ঞতাই আনে না, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়াও বাড়িয়ে তোলে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার দর্শকদের একটি বাস্তব চীন দেখার সুযোগ করে দেয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর রেসিং বিষয়ক চলচ্চিত্র ‘পেগাসাস ৩’ এবং মার্শাল আর্টস চলচ্চিত্র ‘ব্লেডস অব দ্য গার্ডিয়ানস’ প্রদর্শনের পর দর্শকরা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে সাড়া দেন এবং প্রায় দুই মিনিট ধরে করতালি চলতে থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকান চলচ্চিত্রপ্রেমীরা বলেন, ‘পেগাসাস ৩’-এর মালভূমির ট্র্যাকের মনোরম দৃশ্য ও এআই-সহায়তাযুক্ত ড্রাইভিং দেখে তাঁরা মুগ্ধ হয়েছেন। ‘ব্লেডস অব দ্য গার্ডিয়ানস’ সিনেমায় মরুভূমির বিস্তীর্ণ দৃশ্য, ধারালো তরবারির ঝংকার এবং গম্ভীর সুরের সংগীত প্রাচ্যের ন্যায়পরায়ণ চেতনার সাথে গভীর অনুরণন জাগিয়ে তোলে। বেশ কয়েকজন স্থানীয় চলচ্চিত্র পেশাদার মনে করেন, এই দুটি সিনেমায় শিল্পসম্মত সূক্ষ্মতা এবং সাংস্কৃতিক গভীরতা রয়েছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুসরণযোগ্য আখ্যান কাঠামো এবং নান্দনিক পথ দেখায়। তাছাড়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘সিল্ক রোড সিনেমা’ নামে চীনা চলচ্চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধনের সংবাদটি দক্ষিণ আফ্রিকা ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন, দক্ষিণ আফ্রিকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার গ্লোবাল সাউথ নিউজ নেটওয়ার্ক, দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ডিপ্লোম্যাটিক সোসাইটি’, জাম্বিয়ার ৫এফএম রেডিও, নাইজেরিয়ার ‘অথরিটি’, জিম্বাবুয়ে ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন, গাম্বিয়ার কারেন্ট টাইমস, কেনিয়া ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন, কঙ্গো নিউজ নেটওয়ার্কসহ একাধিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। খবরটি প্রায় ১০ কোটির বেশি শ্রোতার কাছে পৌঁছেছে।
এই উদ্যোগ ২০২৬ সালে চীনা চলচ্চিত্রের আফ্রিকায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এটি অব্যাহতভাবে নতুন যুগের সর্বাঙ্গীণ চীন-আফ্রিকা অভিন্ন কল্যাণের সমাজের এক নতুন অধ্যায় রচনা করবে।
সূত্র:আনন্দী-তৌহিদ,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।