সকাল ৯টা। রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে তখনও মানুষের পদচারণায় মুখর। যাত্রী খুঁজতে হাঁকডাক ছেড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশ্যে একের পর এক দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যাচ্ছে।
পরিবহন শ্রমিক ভাষ্য, ঈদের যাত্রা হিসেবে কাঙ্ক্ষিত যাত্রী পাচ্ছেন না তারা। তবে অধিকাংশ দূরপাল্লার কাউন্টার কর্তৃপক্ষ বলছেন, কিছু কিছু পরিবহনে আসন ফাঁকা না থাকলেও অধিকাংশ গাড়িতেই মিলছে সিট।
সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ঘুরে ও পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন গন্তব্যের মানুষ এসে ভিড় জমাতে শুরু করেন। এ সময় পরিবহন শ্রমিকদেরও ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ হাঁকডাক ছেড়ে গন্তব্যের যাত্রী খুঁজছেন। কেউবা কাউন্টারের সামনে আসন খালি নেই লেখা সংবলিত প্লেকার্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন। যাত্রীদেরও বিভিন্ন কাউন্টারে টিকিট খুঁজতে দেখা গেছে।
ঈগল পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের অধিকাংশ গাড়ি পদ্মা সেতু দিয়ে যায়। গাবতলী থেকে যে গাড়িগুলো আছে সেগুলোতে অ্যাডভান্স যাত্রীতে ফুল। আসন ফাঁকা নেই। আজ মোটামুটি ভালোই যাত্রী আছে।
তিনি বলেন, যে গাড়িগুলো কাউন্টার ছেড়ে গেছে তার মধ্যে ২/১টা গাড়িতে আসন ফাঁকা ছিল। পরবর্তী যে গাড়িগুলো আছে সেগুলোরও কিছু কিছু গাড়িতে আসন ফাঁকা আছে।
এস বি সুপার ডিলাক্স গাড়ির কাউন্টার মাস্টার আলাল বলেন, আজকের কোনো গাড়িতে সিট ফাঁকা ছিল না। সবাই এসে বারবার জিজ্ঞাসা করছে। কতজনকে বলে বলে ফেরত পাঠানো যায় বলেন? যার কারণে সামনে লিখে টানিয়ে দিয়েছি। তবে আগামীকাল গাড়িতে আসন ফাঁকা আছে।
গোল্ডেন লাইন পরিবহনের আলী আজগর বলেন, তুলনামূলক যাত্রীর চাপ কম। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩০টার মতো গাড়ি গেছে। অধিকাংশ গাড়িতেই আসন ফুল ছিল। কয়েকটা গাড়িতে ২/১টা করে আসন ফাঁকা গেছে।
তিনি বলেন, সারাদিনে আরও অন্তত ১০টার মতো গাড়ি আছে। সেগুলোতেও অধিকাংশ গাড়িতেই আসন খালি নেই। এখন পর্যন্ত যাত্রীর চাপের কারণে যে অতিরিক্ত গাড়ি দেব তেমন পরিস্থিতি হয়নি। যদি যাত্রীর চাপ বাড়ে তাহলে কোম্পানি বললে অতিরিক্ত গাড়ি ছাড়া হবে।
রয়েল পরিবহনের এসএম মুজাহিদ আলম বলেন, ঈদ উৎসবের তুলনায় যাত্রীর চাপ নেই। ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় কাউন্টার থাকার কারণে এখন গাবতলীতে যাত্রীর চাপ কম।