আন্তর্জাতিক : চীনা মুদ্রা রেনমিনপি বা ইউয়ানের বিনিময় হার বরাবরই বিশ্বের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে। ৮ অক্টোবর, পিপলস ব্যাংক অফ চায়না ‘আরএমবি বিনিময় হার বিষয়ে নীতিগত অবস্থান’ (সংক্ষেপে ‘নীতিগত অবস্থান’) প্রকাশ করে। পিপলস ব্যাংক অফ চায়না জোর দিয়ে বলেছে, বিনিময় হার নির্ধারণে বাজারকেই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে দেওয়া হবে। মুদ্রা অবমূল্যায়নের মাধ্যমে বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের কোনো প্রয়োজন বা উদ্দেশ্য চীনের নেই এবং দেশটি কখনোই প্রতিযোগিতামূলক মুদ্রা অবমূল্যায়নে লিপ্ত হয় না।
বিনিময় হারের ওঠানামা বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। অনেকে মনে করেন, বিনিময় হারের অস্থিরতা বাণিজ্যকে প্রভাবিত করে এবং কোনো দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন তার পণ্যের ‘ডিসকাউন্টিং’-এর সমতুল্য, যা রপ্তানি বাড়াতে সাহায্য করে। তবে, প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য-সুবিধা অর্জন করা এর চেয়ে অনেক বেশি জটিল।
‘নীতিগত অবস্থান’ স্পষ্টভাবে বলেছে যে, অতীতে একাধিকবার আরএমবি-র মূল্যবৃদ্ধি চীনের বাণিজ্যিক উন্নয়নকে প্রভাবিত করেনি এবং মূল্যহ্রাসের সময়কালে চীনের রপ্তানি অংশ দ্রুত বৃদ্ধিও পায়নি।
একগুচ্ছ তথ্য এটি নিশ্চিত করতে পারে: ২০২০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মার্কিন ডলারের বিপরীতে আরএমবি-র মূল্য ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, অপরদিকে একই সময়ে বৈশ্বিক রপ্তানিতে চীনের অংশ ১.৭ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়; ২০২২ সালে মার্কিন ডলারের বিপরীতে আরএমবি-র মূল্য ৮ শতাংশের বেশি হ্রাস পায়, অপরদিকে একই সময়ে বৈশ্বিক রপ্তানিতে চীনের অংশ ০.৭ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পায়।
পিপলস ব্যাংক অফ চায়না স্পষ্টভাবে বলেছে যে, চীন একটি দায়িত্বশীল বড় দেশ। বিগত তীব্র বৈদেশিক সংকটকালে এটি কখনও প্রতিযোগিতামূলক মুদ্রা অবমূল্যায়নে লিপ্ত হয়নি, কিংবা রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আরএমবি-র অবমূল্যায়নকে উৎসাহিত করতে পরিস্থিতির সুযোগও নেয়নি।
বৈশ্বিক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের লেনদেনের পরিমাণ বিশাল। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের গড় দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে আরএমবি-র গড় দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ৮০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং অফশোর বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ৮০ শতাংশ বেশি।
‘নীতিগত অবস্থানে’ বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সাধারণত বিনিময় হারের মধ্যম থেকে দীর্ঘমেয়াদী গতিধারায় হস্তক্ষেপ ও প্রভাব ফেলার ক্ষমতা নেই এবং কোনো দেশ দীর্ঘমেয়াদে তার বিনিময় হার দমন করে, টেকসইভাবে তার বাণিজ্য প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা বাড়াতে পারে না।
বিগত দুই দশকে, আরএমবি-র বিনিময় হার ওঠানামা করেছে। ২০১০ সাল থেকে, আরএমবি-র বিনিময় হার একাধিকবার মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যহ্রাসের চক্রের সম্মুখীন হয়, যার ফলে এর দ্বিমুখী ওঠানামার বৈশিষ্ট্য আরও সুস্পষ্ট হয়েছে, এবং এর নমনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরএমবি বিনিময় হারের পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে বাজারমুখী বিনিময় হার সংস্কারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে চীনের ধারাবাহিক ও অবিচল অঙ্গীকার।
বহু বছরের উন্নয়নের পর, চীন ক্রমান্বয়ে একটি ব্যাপক কার্যকারিতাসম্পন্ন বহুস্তরীয় বৈদেশিক মুদ্রা বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের গভীরতা ও পরিধি ক্রমাগত প্রসারিত হয়েছে এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক নীতির ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অংশগ্রহণ করছে। আরএমবি-র বিনিময় হার নির্ধারণে বাজারের সরবরাহ ও চাহিদা একটি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ‘নীতিগত অবস্থানে’ উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা হলো বিভিন্ন কারণের সম্মিলিত ফল, যার মধ্যে রয়েছে: শিল্পক্ষেত্রে শ্রম বিভাজনের বিবর্তন, আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থার অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব, এবং বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ব্যবধান। এটি কেবল উদ্বৃত্ত বা ঘাটতিওয়ালা দেশগুলোর একক দায় নয় এবং এর জন্য সকল পক্ষের যৌথ পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সূত্র: ওয়াং হাইমান-আলিম-ছাই,চায়না মিডিয়া গ্রুপ