আন্তর্জাতিক: চীন আন্তর্জাতিক পরিষেবা বাণিজ্য মেলায়, বেইজিং ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ মেডিসিনের বুথে এক মিটারেরও বেশি লম্বা একটি মানবাকৃতির বুদ্ধিমান রোবট এক ম্যানিকুইনের কাঁধে ম্যাসাজ দিচ্ছিল। তার অত্যন্ত বাস্তবসম্মত অঙ্গভঙ্গি বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর নজর কাড়ে।
বুথটির কর্মী চাং লু চেং জানান, দক্ষ হাত ও শরীরের সাথে সংযুক্ত যান্ত্রিক বাহুর সহায়তায় রোবটটি মৌলিক ম্যাসাজ-কৌশল অনুকরণ করতে সক্ষম। এছাড়া রোবটটিতে একটি বিশেষায়িত ‘ম্যাসাজ বিশেষজ্ঞ মডেল’ সমন্বিত রয়েছে, যা রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।
চীনা ভেষজ ওষুধের ক্রমবর্ধমান ফার্মেসির জন্য এআই-চালিত মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্রখ্যাত টিসিএম চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা-সমৃদ্ধ এআই স্মার্ট চশমা এবং স্বয়ংক্রিয় টিসিএম রোগ নির্ণয় যন্ত্রসহ একঝাঁক উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শিত হয় মেলায়। এসব প্রযুক্তি ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা (টিসিএম) শিক্ষা ও গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গভীর একীকরণের এক উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরে।
বেইজিং ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ মেডিসিনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সম্পাদক ওয়াং ইয়াও ছি সাংবাদিকদের বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিচ্ছে। আমাদের ডিজিটাল রূপান্তরের ধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে; ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাবিদ্যার ঐতিহ্য ও উদ্ভাবনের সাথে এআই-কে সমন্বিত করে শিক্ষা সংস্কারের চাহিদা পূরণ করতে হবে; এবং প্রাচীন ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে।”
এদিকে, বেইজিং ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ মেডিসিনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘চীনা চিকিৎসার মশাল হস্তান্তর’ ফ্রেমওয়ার্কটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ‘ইলেকট্রনিক টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে কাজ করছে, যা যেকোনো সময় ও স্থানে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম।
বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাকাডেমিক অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর লিউ থিয়ে কাং জানান, তাদের উদ্ভাবিত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলটি বিপুল পরিমাণ ধ্রুপদী চিকিৎসাগ্রন্থ, তত্ত্ব, কোর্সওয়ার্ক, ভেষজ জ্ঞান ও প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত বহুমাত্রিক তথ্যভাণ্ডারকে সমন্বিত করেছে। এটি চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্বাচিত প্রথম ব্যাচের জেনারেটিভ এআই-ভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্রিক বৃহৎ মডেল নির্মাণ প্রকল্পগুলোর অন্যতম।
বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাকেন্দ্রিক বহু বিশ্ববিদ্যালয় এমন একদল দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গুরুত্ব দিচ্ছে, যারা এই চিকিৎসায় পারদর্শী হওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল সাক্ষরতায় সমৃদ্ধ।
এরই অংশ হিসেবে, সাংহাই ইউনিভার্সিটি অব ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন প্রতিষ্ঠা করেছে ‘এআই স্কুল অব টিসিএম’। গুয়াংজু ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ মেডিসিন স্নাতক পর্যায়ে এআই মেজর চালু করেছে। এছাড়া বেইজিং ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ মেডিসিন তাদের পাঠ্যক্রমে এআই-কে যুক্ত করে বেশ কিছু উন্নত কোর্স চালু করেছে; যার মধ্যে রয়েছে—ইন্টেলিজেন্ট টিসিএম ডায়াগনস্টিকস, আইডেনটিফিকেশন অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট কম্প্যাটিবিলিটি অব চাইনিজ হারবাল প্রপার্টিজ এবং শারীরিক ও মানসিক মেলবন্ধনে মেরিডিয়ান রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি।
গুয়াংজু ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ মেডিসিনের ডক্টরাল গবেষক লি চি ইউয়ান বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসার বহু শতাব্দীর সঞ্চিত অভিজ্ঞতাকে এমন কাঠামোগত জ্ঞানে রূপান্তর করতে পারে, যা সহজেই শেখা যায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। তবে এটি কোনোভাবেই টিসিএম-এর সিনড্রোম ডিফারেনশিয়েশন (রোগের অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয়) ও চিকিৎসার মূল দর্শনকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না।”
সাংহাই ইউনিভার্সিটি অব ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিনের প্রেসিডেন্ট চি কুয়াং উল্লেখ করেন, চলতি বছর চীনে ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষার ৭০তম বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টিসিএম-কে একটি সম্পূর্ণ নতুন ‘জ্ঞানতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি’ (Cognitive Perspective) প্রদান করছে।
সূত্র: ছাই-আলিম-ওয়াং হাইমান, চায়না মিডিয়া গ্রুপ