আন্তর্জাতিক: আগস্ট ১৫, (শনিবার) বেইজিংয়ে জাপানি রাজনীতিবিদদের বিতর্কিত ইয়াসুকুনি মন্দিরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও পূজা-অর্চনার জবাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র চিয়াং বিন।
মুখপাত্র চিয়াং বিন বলেন, ইয়াসুকুনি মন্দির হলো মূলত জাপানি সামরিকতন্ত্রের আগ্রাসনী যুদ্ধের এক আত্মিক ও প্রতীকী হাতিয়ার—যেখানে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের রক্তে রঞ্জিত প্রথম সারির যুদ্ধাপরাধীদের স্মৃতিবিজড়িত নাম সংরক্ষিত রয়েছে। জাপানি রাজনীতিবিদদের এই ধরনের অসংবেদনশীল কর্মকাণ্ড ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারকে প্রকাশ্যে চরম অবমাননা করে এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জনগণের অনুভূতিকে গভীরভাবে আঘাত করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অতীত যুদ্ধের অপরাধ ঢেকে রাখা ও অস্বীকার করা এবং বিশ্ব ফ্যাসিবাদবিরোধী যুদ্ধের বিজয় ও যুদ্ধপরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো।
তিনি আরও যোগ করেন, একদিকে মুখে শান্তির কথা বলা আর অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে শ্রদ্ধা জানানো ও পূজা-অর্চনা করা—এমন দ্বিমুখী ও ভণ্ড আচরণ মূলত জাপানের ডানপন্থী দলগুলোর চরম বিকৃত ইতিহাসবোধ এবং সামরিকতন্ত্রের প্রেতাত্মাকে পুনরুজ্জীবিত করার বিপজ্জনক ষড়যন্ত্রকেই উন্মোচিত করে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় মনে করিয়ে দেন যে, আগ্রাসনের ইতিহাসকে সঠিকভাবে স্বীকার করা এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য অন্তরের অন্তস্তল থেকে গভীর আত্মসমালোচনা করাই হলো এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে জাপানের সম্পর্কের মূল রাজনৈতিক ভিত্তি।
চলতি বছর `টোকিও ট্রায়াল` শুরুর ৮০তম বার্ষিকী উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা জাপানকে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এই ধরনের ভুল পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। জাপান যদি নিজের হঠকারী সিদ্ধান্তে অটল থেকে `নতুন ধাঁচের সামরিকতন্ত্র` -কে এগিয়ে নিতে চায় এবং অঞ্চলের শান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে তারা আবারও ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে এবং ইতিহাসের চরম কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হবে।"
সূত্র: শুয়েই-তৌহিদ-জিনিয়া, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।