আন্তর্জাতিক: ‘রেশমপথের আলো-ছায়া’ শীর্ষক চীনা চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী ও প্রচার কার্যক্রম কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকের আলাতাউ সিনেমা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কিরগিজস্তানে চীনা দূতাবাসের কাউন্সেলর লি হুয়া, কিরগিজস্তানের সংস্কৃতি, তথ্য ও যুবনীতি মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক তারানবেক তোলবেকভ, চায়না মিডিয়া গ্রুপের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অনুবাদ ও প্রযোজনা কেন্দ্রের পরিচালক ওয়াং লুসহ প্রায় ৩০০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
চীন ও কিরগিজস্তানের দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মতৈক্য বাস্তবায়ন এবং দুই দেশের মানবিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও গভীর করার লক্ষ্যে এবারের প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়েছে বেশ কয়েকটি বৈচিত্র্যময় চীনা চলচ্চিত্র।
কিরগিজস্তানে চীনা দূতাবাসের কাউন্সেলর লি হুয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, চীন ও কিরগিজস্তান পরস্পরের প্রতিবেশী এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব রয়েছে। প্রাচীন রেশমপথ দুই দেশের জনগণের দুই হাজার বছরেরও বেশি সময়ের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের সাক্ষী। ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ দুই দেশের সার্বিক সহযোগিতায় নতুন চালিকাশক্তি সঞ্চার করেছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছর শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) প্রতিষ্ঠার ২৫তম বার্ষিকী। কিরগিজস্তান বর্তমানে সংস্থাটির পালাক্রমিক সভাপতিরাষ্ট্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এবং শিগগিরই এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে। আশা করা যায়, এবারের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এসসিও কাঠামোর আওতায় চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি বিনিময় জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং চীন ও কিরগিজস্তানের জনগণের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও গভীর করবে।
কিরগিজস্তানের সংস্কৃতি, তথ্য ও যুবনীতি মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক তারানবেক তোলবেকভ তার বক্তব্যে বলেন, এই চলচ্চিত্র প্রদর্শনী কিরগিজস্তানের দর্শকদের সামনে একটি আধুনিক চীনের চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কিরগিজস্তানের দর্শকরা চীন, চীনের জনগণ এবং সমকালীন চীনা সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন। আশা করা যায়, ‘রেশমপথের আলো-ছায়া’ চীন-কিরগিজস্তান সহযোগিতার নতুন পর্যায়ের সূচনা হয়ে উঠবে এবং দুই দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে উদ্ভাবনী সহযোগিতা ও দুই দেশের জনগণের গভীর বন্ধুত্ব এগিয়ে নেওয়ার সেতু হিসেবে কাজ করবে।
চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-র চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অনুবাদ ও প্রযোজনা কেন্দ্রের পরিচালক ওয়াং লু বলেন, সিএমজি সবসময় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনকে সেতু হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময়কে এগিয়ে নিয়ে আসছে। এবারের প্রদর্শনীর চীনা চলচ্চিত্রগুলোর বিষয়বস্তু ভিন্ন হলেও, এগুলোর মধ্যে থাকা আন্তরিক আবেগ ও মানবিকতার আলো সংস্কৃতির সীমারেখা পেরিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে অনুরণন সৃষ্টি করবে বলে আশা করা যায়।
কিরগিজস্তানের জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল, জাতীয় বার্তা সংস্থাসহ দেশটির কয়েকটি প্রধান গণমাধ্যম অনুষ্ঠানটি কাভার করে।
সূত্র: শিশির-আলিম-আকাশ, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।