কামরুল হাসান : রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে টেকসই, লাভজনক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি।
বুধবার জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য সারওয়ার জামাল নিজাম এমপি (চট্টগ্রাম-১৩)-এর এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বহর সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে বিমানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, নিজস্ব ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে আয় করছে বিমান। সামগ্রিকভাবে লাভজনক অবস্থানে থাকলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে পরিচালন দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নয়ন প্রয়োজন।
বিমানের কার্যক্রমে উড়োজাহাজের স্বল্পতাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বহরে পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ যুক্ত করা গেলে আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে লাভজনকতা আরও শক্তিশালী হবে। “নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ফ্লিট প্ল্যান”-এর আওতায় ধাপে ধাপে পুরোনো উড়োজাহাজ বাদ দিয়ে নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তবে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ সময়সাপেক্ষ হওয়ায় অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে লিজের মাধ্যমে উড়োজাহাজ যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে বিদ্যমান রুট সচল রাখা ও নতুন রুট সম্প্রসারণ সম্ভব হয়।
যাত্রীসেবা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং—উভয় ক্ষেত্রেই মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কঠোর তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থার সম্প্রসারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ইতোমধ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
সীমিত উড়োজাহাজ থাকা সত্ত্বেও বিমানের সময়নিষ্ঠতা বা অন-টাইম পারফরম্যান্স (ওটিপি) উন্নত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রায় ৮০ শতাংশ ওটিপি অর্জিত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন,বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বহর বৃদ্ধি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, উন্নত সেবা এবং সময়নিষ্ঠতা—এই চারটি ক্ষেত্রেই সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বিমান আঞ্চলিক এভিয়েশন বাজারে আরও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে এ যাত্রার মূল চ্যালেঞ্জ।