কামরুল হাসান : বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিমান ও পর্যটন খাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত H.E. Dr. Abdullah Zafer H. Bin Abiyah উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় উঠে আসে, বর্তমান সরকারের অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর আগ্রহ বাড়ছে, যা বাংলাদেশের আকাশপথকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে।
বৈঠকে সৌদি আরবের নতুন এয়ারলাইন্স Riyadh Air-এর বাংলাদেশে স্টেশন স্থাপন ও ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-সৌদি আরব রুটে যাত্রী পরিবহন, বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিক ও হজ-উমরাহ যাত্রীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ঢাকার পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক রুটে যুক্ত করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রবাসী সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
মন্ত্রী আফরোজা খানম বাংলাদেশের যাত্রীদের জন্য সৌদি এয়ারলাইন্সগুলোর সেবার মান আরও উন্নত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যাত্রীসেবার গুণগত মান বৃদ্ধি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার, যা দেশের বিমান খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়ক হবে। জবাবে রাষ্ট্রদূত দ্রুত সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ বৈঠক শুধু কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগ, পর্যটন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি কৌশলগত অগ্রযাত্রার ইঙ্গিত বহন করে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নকেন্দ্রিক নীতির ধারাবাহিকতায় এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের আকাশপথ ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।