আন্তর্জাতিক, সেপ্টেম্বর ২৫ : হলুদ নদী অববাহিকার পরিবেশ সংরক্ষণ ও উচ্চমানের উন্নয়ন হলো চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উন্নয়ন কৌশল। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে, আবার বর্তমানের কাজও চালিয়ে যেতে হবে; একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সুষ্ঠুভাবে তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে, এক প্রজন্মের পর আরেক প্রজন্ম ধরে কাজ অব্যাহতভাবে করতে হবে, যাতে হলুদ নদী জনগণের কল্যাণ করে।
এখন হলুদ নদী-সংলগ্ন প্রতিটি প্রদেশ ও অঞ্চল পানির পরিমাণ অনুযায়ী পানিসম্পদ সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করছে, পরিবেশগত সুবিধাকে উন্নয়ন ও জনগণের সমৃদ্ধির সুবিধায় রূপান্তর করছে, এবং সাধারণ মানুষ ভাগ করে নিচ্ছে হলুদ নদী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ফল।
শরত্কালে হলুদ নদীর মোহনায় শানতোং প্রদেশের তোং ইয়িং শহরে শুরু হয়েছে কাঁকড়া ধরার মৌসুম। একসময় এখানে ছিল বিস্তীর্ণ লবণাক্ত ক্ষারীয় চর; এখন স্থানীয়রা হলুদ নদীর পানি পুকুরে প্রবেশ করিয়ে চাষের উপযোগী পানি তৈরি করেছে, এবং তাতে কাঁকড়া বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। এ বছর এ শহরজুড়ে কাঁকড়ার উৎপাদন ৯ হাজার টন এবং উৎপাদন মূল্য ১২০ কোটি ইউয়ান ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমগ্র হলুদ নদী অববাহিকার দিকে তাকালে দেখা যায়, হলুদ নদীর পানি কেবল কাঁকড়ার মতো জনগণের আয় বাড়ানোর শিল্পই গড়ে তোলেনি, বরং তীরের লক্ষ লক্ষ হেক্টর উর্বর জমিতে সেচ দিয়েছে এবং নদী-সংলগ্ন অঞ্চলের শিল্প উন্নয়নকে সমর্থন করেছে।
তবে এই মহানদীতে নেই পানির প্রাচুর্য। হলুদ নদীর পানিসম্পদ চীনের সব নদীর মোট প্রবাহের মাত্র ২ শতাংশ। অথচ এ নদীকেই দেশের ১২ শতাংশ জনগোষ্ঠী, ১৭ শতাংশ কৃষিজমি এবং ৫০টিরও বেশি বড় ও মাঝারি শহরের পানির চাহিদা মেটাতে হয়।
বিষয়টি নিয়ে সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, হলুদ নদীর পানির পরিমাণ এতটুকুই; পরিবেশ নির্মাণেও পানি লাগে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাওয়া-দাওয়া ও জীবনযাপনের জন্যও পানি ছাড়া চলে না। পানিকে অসীম সরবরাহের সম্পদ হিসেবে দেখা যাবে না। তিনি আরও বলেন, পানিসম্পদের পরিমাণের আওতা বিবেচনায় নিয়ে জনসংখ্যা, শহর ও শিল্পের উন্নয়নের যুক্তিসংগত পরিকল্পনা করতে হবে।
চীনা জলসম্পদ ও জলবিদ্যুৎ বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ওয়াং চায়ান হুয়া বলেন, সি চিন পিং হলুদ নদী অববাহিকার উচ্চমানের উন্নয়নের দিকনির্দেশ করেছেন। এর মূল কথা হলো পানির পরিমাণ অনুযায়ী এগোতে হবে।
নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে মাতৃনদী। দুই তীরের মানুষের জীবনও সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। হ্যনান প্রদেশের লুওইয়াং শহরের শিনআন জেলায় ১৬০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ ‘হলুদ নদী প্রাচীন রাজধানী নম্বর-১’ নামের পর্যটন মহাসড়কটি ৬৬টি গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। একসময়ের প্রত্যন্ত ও বিচ্ছিন্ন ছোট পাহাড়ি গ্রামগুলোকে হলুদ নদী-সংলগ্ন ছবির মতো সুন্দর পর্যটন বলয়ে পরিণত করেছে এটি। ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পরিবেশ-পর্যটনের মাধ্যমে হাতে পেয়েছে ‘সোনার বাটি’।
শিনআন জেলার ওয়াং গ্রামের বাসিন্দা ছেন ছিউফেন বলেন, আগে যারা কাজ করতে বাইরে গিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই নিজের গ্রামে ফিরে এসেছেন। কেউ হোমস্টে খুলেছেন, কেউ গ্রামীণ খাবার ও বিনোদন কেন্দ্র খুলেছেন। আমরা নিজের গ্রামে পর্যটনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছি। হলুদ নদী আমাদের সুখের নদী, সমৃদ্ধির নদী।
সূত্র: আকাশ, ফয়সল, শিশির, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।