আন্তর্জাতিক, সেপ্টেম্বর ২৩ : চীনে বছরের মোট শস্য উৎপাদনের সিংহভাগই আসে শরৎকালীন শস্য থেকে। গত জুনে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং শানতং প্রদেশের ত্যচৌ পরিদর্শন করেন। গ্রীষ্মকালীন শস্যের ভালো ফলনের কথা জানতে পেরে তিনি আনন্দের সঙ্গে কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে বলেন, ‘শরৎকালীন শস্যের ফলন নিয়েও আমাদের অনেক আশা। আসুন, এ বছরও আরও একটি বাম্পার ফলনের জন্য চেষ্টা করি।’
পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রথম বছরে, শীতকালীন গমের ব্যাপক বিলম্বিত বপন এবং প্রবল বর্ষণ ও বন্যার মতো অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায়, সব দল একযোগে কাজ করেছে। গ্রীষ্মকালীন শস্য উৎপাদন প্রথমবারের মতো ৩০০ বিলিয়ন চিন (এক ‘চিন’ আধা কেজির সমান) অতিক্রম করেছে; আগাম ধানের উৎপাদন স্থিতিশীল ছিল; এবং শরৎকালীন শস্যের উৎপাদন সার্বিকভাবে ইতিবাচক ছিল, যা একটি বাম্পার ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
সি চিন পিং বলেন, চীন বিশাল জনসংখ্যাবিশিষ্ট একটি বড় দেশ এবং দেশ পরিচালনায় খাদ্য-নিরাপত্তার সমস্যার সমাধান সর্বদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়ে এসেছে। শস্য উৎপাদনে আমাদের প্রচেষ্টা শিথিল করা চলবে না।
তিনি বহুবার বিভিন্ন স্থানের ক্ষেত-খামার পরিদর্শন করেছেন।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে, চীনা কৃষকদের ফসল কাটার উৎসবের কিছুদিন পরেই, সি চিন পিং হেলংচিয়াংয়ের চিয়ানসানচিয়াং রাষ্ট্রীয় খামার ব্যুরো পরিদর্শন করেন।
২০২০ সালের জুলাই মাসে তিনি চিলিন প্রদেশের সিফিং শহরের লিশু জেলার ভুট্টাক্ষেত পরিদর্শন করেন। তখন তিনি বলেন, ভালো শরৎকালীন ফসল নিশ্চিত করতে আমাদের কীটপতঙ্গ ও রোগবালাই দমন-ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
২০২২ সালের জুন মাসে তিনি সিছুয়ান প্রদেশের মেইশান শহরের তংফো এলাকার থাইহ্যে থানার ইয়ংফেং গ্রামের ধানক্ষেত পরিদর্শন করেন। তখন তিনি কৃষিশিল্প উন্নয়নের কথা জোর দিয়ে বলেন।
২০২৪ সালের বসন্তকালে সি চিন পিং হুনান প্রদেশের ছাংত্য শহরের তিংছেং এলাকার সিয়েচিয়াফু থানার কাংচংফিং গ্রামের বহুমুখী প্রদর্শনী এলাকা পরিদর্শন করেন।
পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সার্বিক কৃষি উৎপাদনের ক্ষমতা ও গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য, একটি বিশেষ রূপরেখা দেওয়া হয়েছে এবং খাদ্য-নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে শস্যের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকবে এবং সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠবে। জটিল ও গুরুতর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও ঘন ঘন চরম আবহাওয়ার ঘটনা, শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। সি চিন পিং বলেন, কৃষি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়কে শক্তিশালী করতে হবে; কৃষি ঘাঁটি ও গবেষণা-প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। ফলন ও কার্যকারিতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধির জন্য উন্নত ও প্রয়োগযোগ্য জাত, প্রযুক্তি এবং সরঞ্জাম সক্রিয়ভাবে প্রচার করতে হবে।
এদিকে, শস্যচাষিদের আয় নিশ্চিত করার পদ্ধতির উন্নতি করতে হবে এবং মূল্য, ভর্তুকি ও বীমাকে সমন্বিত করে, এমন নীতি ব্যবস্থাকে নিখুঁত করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্র: ছাই, আলিম, ওয়াং হাইমান, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।