স্থানীয় সময় ১৪ অক্টোবর, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের শরৎকালীন বার্ষিক সভা চলাকালে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দে চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-কে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন।
সাক্ষাৎকারে ইউরোপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন প্রসঙ্গে লাগার্দে বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে রয়েছে, চীন তার পরেই অবস্থান করছে। আর ইউরোপের কয়েকটি দেশ অনেক পিছিয়ে থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বলা যায়। ইউরোপে বিশ্বমানের প্রতিভা, শিক্ষাব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে। কিন্তু এসব উপাদানকে কার্যকরভাবে একত্রিত করা সম্ভব হয়নি। ইউরোপে বিপুল সঞ্চয় রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেই সঞ্চয়ের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাচ্ছে এবং দেশটির উদ্ভাবন ও উন্নয়নে সরাসরি সহায়তা করছে। ইউরোপ চাইলে নিজেদের সঞ্চিত অর্থকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব উদ্ভাবনী ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারে।
চীন-ইউরোপ সংলাপ ও সহযোগিতা প্রসঙ্গে লাগার্দে বলেন, চীনের সঙ্গে সংলাপ সম্ভব। সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ইউরোপের আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। সংলাপের জন্য সময় প্রয়োজন। এটি ধাপে ধাপে, ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে হবে। চীন ও ইউরোপের মধ্যে অভিন্ন স্বার্থও রয়েছে। পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ এবং আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে লাগার্দে বলেন, চীন তার রাজনৈতিক ব্যবস্থার সুবিধা ও সাংগঠনিক সক্ষমতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছে। দারিদ্র্যবিমোচনে চীন দেশব্যাপী উদ্যোগ নিয়েছে এবং এর মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করেছে। এটি এক অসাধারণ অর্জন। এদিকে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বায়ু ও পানির গুণগত মান উন্নয়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রেও চীন উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতো বড় একটি দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার বিশাল দায়িত্ব তাঁর কাঁধে রয়েছে। সি চিন পিং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। বিশ্বের শান্তি, উন্নয়ন ও সহযোগিতার গুরুদায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত।
নিজের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে লাগার্দে বলেন, তিনি এখনো ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগী রয়েছেন। উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া যেন সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যায়, সেটিই তিনি আশা করেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট পদটি তাঁর বিবেচনায় রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি অনেকগুলো বিকল্পের মধ্যে একটি।”
সূত্র: শিশির-আলিম-আকাশ,চায়না মিডিয়া গ্রুপ