বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   আন্তর্জাতিক
তৃণমূল থেকে কেন্দ্র: কার্যকর বাস্তবায়ন সক্ষমতাসম্পন্ন সাংগঠনিক ব্যবস্থার ওপর চীনের জোর
  Date : 28-10-2026
Share Button

একটি রাজনৈতিক দলের শক্তির মূল উৎস সাংগঠনিক কাঠামো। দলের সামগ্রিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন—সব ক্ষেত্রেই একটি সুসংহত ও কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিংকে কেন্দ্র করে গঠিত পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সংযুক্ত এবং শক্তিশালী বাস্তবায়ন সক্ষমতাসম্পন্ন একটি সাংগঠনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের সংগঠনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ নতুন যুগে সার্বিক ও কঠোর পার্টি শাসন এগিয়ে নেওয়া এবং চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকীকরণের মাধ্যমে চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সাংগঠনিক ভিত্তি জোরদার করছে।
তৃণমূল পর্যায়ই পার্টির শাসনব্যবস্থার ভিত্তি এবং শক্তির প্রধান উৎস। পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার প্রথম বছরে চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকীকরণের নানা ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির সম্মুখসারিতে কাজ করেছেন।
তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা পার্টির অভ্যন্তরে ঐক্য এবং জাতীয় উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের পরিবেশ গড়ে তুলেছে। এর ফলে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তৃণমূল সংগঠনগুলোর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং নতুন যুগে পার্টি গঠনের জন্য একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর পার্টি গঠনবিষয়ক চিন্তাধারায় সাংগঠনিক নির্মাণের কয়েকটি মৌলিক দিক তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কেন্দ্রীভূত ও ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব বজায় রাখা, রাজনৈতিক নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া, সমন্বিত ও কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যোগ্য ও দক্ষ কর্মী-ক্যাডার বাহিনী তৈরি করা এবং পার্টি পরিচালনার রাজনৈতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।
সি চিন পিংয়ের দল গঠন সংক্রান্ত চিন্তাধারার নির্দেশনায়, পার্টির বিপুলসংখ্যক সদস্য ও কর্মী-ক্যাডার তাদের দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যনিষ্ঠা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের কল্যাণে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। চিন্তা, রাজনীতি ও কর্মকাণ্ডে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার মাধ্যমে তারা সাংগঠনিক ঐক্য ও কার্যকর নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরছেন।
নগরাঞ্চলের আবাসিক এলাকাগুলোতে পার্টির সদস্যরা ভবন, আবাসিক এলাকা ও বিভিন্ন ইউনিট পর্যায়ে বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে বহুমুখী সমন্বিত শাসনব্যবস্থা এগিয়ে নিচ্ছেন। এর লক্ষ্য হলো স্থানীয় সমস্যা সমাধান, নাগরিকসেবা উন্নত করা এবং বাসিন্দাদের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ গড়ে তোলা।
একই সঙ্গে দেশজুড়ে পার্টি ও গণসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে কমিউনিটি ক্যান্টিন, অবসর ও বিনোদনের সুবিধা এবং নৈশ বিদ্যালয়ের মতো সেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চল, বিভাগ ও প্রশাসনিক স্তরের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে জনগণের জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান এক জায়গা থেকেই পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
গ্রামীণ এলাকার সার্বিক পুনরুজ্জীবনেও তৃণমূল পর্যায়ের পার্টি সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশজুড়ে দেড় লাখ গ্রামভিত্তিক কর্মদল এবং পাঁচ লাখেরও বেশি গ্রামভিত্তিক প্রথম সচিব ও কর্মদলের সদস্য সরাসরি গ্রামীণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনের জন্য নির্ধারিত ১৬০টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দলগত সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এক লাখ ৫০ হাজারের বেশি চিকিৎসক, দুই লাখ ২৪ হাজারের বেশি শিক্ষক এবং এক লাখ ৫৯ হাজারের বেশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পেশাজীবী কাজ করেছেন। তাদের অংশগ্রহণ গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে।
বড় জাতীয় প্রকল্প এবং উচ্চমানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতেও পার্টির সদস্য ও তৃণমূল সংগঠনগুলো সক্রিয় রয়েছে। মৌলিক প্রযুক্তিতে অগ্রগতি অর্জন এবং নতুন উৎপাদনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারা উন্নয়ন কার্যক্রমে সাংগঠনিক সক্ষমতাকে কাজে লাগাচ্ছে। এর মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তিকে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সহায়ক শক্তিতে রূপান্তরিত করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রমের পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও কর্মজীবী গোষ্ঠীর মধ্যে পার্টির সংগঠন ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে পার্টির যোগাযোগ, সংহতি ও প্রভাব আরও বৃদ্ধি করা।
নতুন যাত্রায় সি চিন পিংকে কেন্দ্র করে গঠিত পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠন ও কর্মী-ক্যাডাররা ঐক্যবদ্ধ চিন্তা, দৃঢ় সংকল্প এবং সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা করছে সিপিসি। সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা, পার্টির নেতৃত্ব ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের সংযোগ সুদৃঢ় করার মধ্য দিয়ে দেশ গঠন ও চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
সূত্র: তুহিনা-ফয়সল-শুয়েই,চায়না মিডিয়া গ্রুপ



  
  সর্বশেষ
ঐতিহাসিক সত্য রক্ষা ও যুদ্ধোত্তর শৃঙ্খলা বজায় রাখার তাগিদ জাতিসংঘে
তৃণমূল থেকে কেন্দ্র: কার্যকর বাস্তবায়ন সক্ষমতাসম্পন্ন সাংগঠনিক ব্যবস্থার ওপর চীনের জোর
বাণিজ্য মেলা শেষে চীনের কারখানায় ছুটছেন বিদেশি নির্বাহীরা: নেপথ্যে প্রযুক্তি ও শিল্প সক্ষমতা
এক কাপ কফি ও সিনচিয়াংয়ের উন্মুক্ততা: উরুমচিতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের অনন্য পদচিহ্ন

প্রকাশক ও সম্পাদক : ফাতেমা ইসলাম তানিয়া
সম্পাদক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরেরপুল ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ।
২১৯ ফকিরেরপুল (১ম গলি ২য় তলা), মতিঝিল ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত । মোবাইল : ০১৮৩৪-৮৯৮৫০৪ ই-মেইল :
E-mail : alordiganto2021@gmail.com