সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও টোগোর নেতাদের কৌশলগত নির্দেশনায় দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন টোগোর বিশ্বস্ত ভাই ও অংশীদার হিসেবে থাকতে ইচ্ছুক। সেইসঙ্গে রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা সুসংহত করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীর এবং উভয় দেশের আধুনিকীকরণে আরও ভালোভাবে সহায়তা করতে ইচ্ছুক চীন। ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিকেলে বেইজিংয়ের মহাগণভবনে চীন সফরে আসা টোগোর মন্ত্রীপরিষদের প্রেসিডেন্ট ফোরে নাসিংবের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং।
বৈঠকে লি ছিয়াং আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং প্রেসিডেন্ট ফোরে সাক্ষাৎ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন যুগের চীন-টোগো অভিন্ন কল্যাণের সমাজে উন্নীত করেছেন।
লি ছিয়াং আরও বলেন, টোগোর সাথে উন্নয়ন কৌশল গভীরভাবে সমন্বয় করে সহযোগিতার আরও ক্ষেত্র অন্বেষণ ও উন্নয়ন করতে ইচ্ছুক চীন। সেইসঙ্গে সংযোগ, অবকাঠামো, কৃষি আধুনিকীকরণ এবং অর্থায়নের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে এবং যৌথভাবে উভয় দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতেও চীন আগ্রহী।
টোগো থেকে আরও উন্নতমানের পণ্য আমদানি করতে এবং টোগোকে চীনের শূন্য-শুল্ক নীতি এবং সবুজ চ্যানেল নীতির সুবিধা নিতে স্বাগত জানান লি ছিয়াং।
তিনি আরও বলেন, উভয়পক্ষ স্বাস্থ্যসেবা, যুব, সংস্কৃতি, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং স্থানীয় সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা জোরদার করতে পারে। টোগো এবং অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে মিলে চীন ও আফ্রিকার মধ্যকার ‘দশটি অংশীদারত্বমূলক পদক্ষেপ’ সক্রিয়ভাবে বাস্তবায়ন করতে ইচ্ছুক চীন।
ফোরে বলেন, টোগো দৃঢ়ভাবে এক-চীন নীতি সমর্থন করে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, কৃষিপণ্য, শুল্ক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অবকাঠামো এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মতো ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বাস্তব সহযোগিতা জোরদার করতে ইচ্ছুক তার দেশ।
সংলাপের মাধ্যমে আফ্রিকার মতপার্থক্য নিরসন এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলো মোকাবিলার পক্ষে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীনের সঙ্গে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করতে টোগো ইচ্ছুক বলেও জানান তিনি।
আলোচনার পর, দুই নেতা যৌথভাবে সরবরাহ শৃঙ্খল, মানবসম্পদ, ডিজিটাল বাণিজ্য, শুল্ক ও কোয়ারেন্টাইন এবং গণমাধ্যমের মতো ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি সহযোগিতা দলিলে স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করেন।
সূত্র: তুহিনা-ফয়সল-শুয়েই,চায়না মিডিয়া গ্রুপ