চায়না মিডিয়া গ্রুপের চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের (সিজিটিএন) উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৮২ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সংরক্ষণবাদ ইউরোপের দেশগুলোর শিল্পকাঠামো পুনর্বিন্যাসের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। বরং এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশকে আরও খারাপ করবে।
জরিপে ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বাণিজ্য সংরক্ষণবাদ ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা দুর্বল করে দেবে।
৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, অন্য দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ ইউরোপীয় অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে অন্যান্য অর্থনীতির বাণিজ্যিক মতপার্থক্য আরও বাড়িয়ে তুলবে।
সম্প্রতি চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক পরামর্শব্যবস্থার দ্বিতীয় নিয়মিত বৈঠকে উভয় পক্ষ বাস্তবভিত্তিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা করে বেশ কয়েকটি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের আওতায় মতপার্থক্য যথাযথভাবে মোকাবিলা করা এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থিতিশীল ও আরও ভারসাম্যপূর্ণ রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তারা।
বৈঠকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের আওতায় কিছু পণ্যের শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।
এদিকে, জরিপে আরও দেখা গেছে, ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, চীন ও ইউরোপের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মতে, উন্মুক্ত সহযোগিতাই নতুন সুযোগ ও উন্নয়নের পথ তৈরি করতে পারে। তারা আরও জানিয়েছেন, ইউরোপের উচিত অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও নীতিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো। একই সঙ্গে বর্তমান দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমস্যাগুলো, বিশেষ করে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি, চীন ও ইউরোপের গভীরতর পারস্পরিক অর্থনৈতিক নির্ভরতার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সূত্র: শুয়েই-ফয়সল-জিনিয়া,চায়না মিডিয়া গ্রুপ