বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   আন্তর্জাতিক
শস্য থেকে গভীর সমুদ্র, খাদ্য সরবরাহের পরিধি বাড়াচ্ছে চীন
  Date : 07-10-2026
Share Button

 

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেছেন, খাদ্য সম্পর্কে সর্বাঙ্গীন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা, জনগণের উন্নত জীবনের চাহিদা পূরণ করা, জনগণের খাদ্যাভ্যাসের বিবর্তনের ধারার সঙ্গে পরিচিত থাকা এবং খাদ্য-সরবরাহ নিশ্চিত করার ভিত্তিতে মাংস, শাকসবজি, ফল, জলজ পণ্যসহ বিভিন্ন খাবারের কার্যকর সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত।

বর্তমানে চীনে বৈচিত্র্যময় খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। একসময় চীনাদের লক্ষ্য ছিল দু’বেলা পেট ভরে খাওয়া। এখন দিন বদলেছে। চীনারা উচ্চমানের খাবার গ্রহণের দিকে ক্রমবর্ধমান হারে ঝুঁকছে। এদিকে, চীনে খাদ্য-সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতাও এখন অনেক বেড়েছে।

চলতি বছরের জাতীয় দিবসের ছুটিতেও চীনজুড়ে ফসল তোলার কাজ অব্যাহত আছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উর্বর কালো মাটিতে শরৎকালীন ফসল ঘরে তোলা হচ্ছে; দক্ষিণ চীন সাগরের উপকূলে মাছভর্তি নৌকাগুলো ফিরে আসছে; লোয়েস মালভূমিতে গাছের ডালে আপেল পেকেছে; ইয়াংজি নদীর তীরে তাজা শাকসবজি বাজারে আসছে। এই প্রাচুর্যময় ফসল চীনা জনগণের নিত্যদিনের আহারকে সমৃদ্ধ করে তুলছে।

২০১৫ সালে চীনের কেন্দ্রীয় গ্রামীণ কর্ম-সম্মেলনে ‘কৃষির ব্যাপকতা’ এবং ‘খাদ্য সম্পর্কে সর্বাঙ্গীন দৃষ্টিভঙ্গি’-র ধারণা গৃহীত হয়। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেন, পরিবেশগত সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী শস্য, অর্থকরী ফসল, পশুপালন, জলজ চাষ বা বনায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে আধুনিক কৃষি উৎপাদন কাঠামো ও আঞ্চলিক বিন্যাস গড়ে তুলতে হবে, যা বাজারের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং একই সঙ্গে সম্পদ ও পরিবেশের ধারণক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

চীনের কৃষি ও গ্রাম মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ অর্থনীতি গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক চাও ছাং পাও বলেন, “খাদ্য সম্পর্কে সর্বাঙ্গীন দৃষ্টিভঙ্গি চীনের জনগণের খাদ্যগ্রহণের কাঠামোর উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। খাদ্য-সরবরাহের বিষয়ে আমরা শুধু সীমিত চাষযোগ্য জমির ওপর মনোযোগ দিই না, বরং ১৮০ কোটি মু আবাদি জমির সীমা কঠোরভাবে রক্ষা করার পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও প্রসারিত করে চলেছি। আজ চীনের খাদ্য-সরবরাহের উৎসগুলো ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে, যা এই ধারণার কৌশলগত ও দূরদর্শী প্রকৃতিকে সম্পূর্ণরূপে তুলে ধরে।”

গত বছর চীনে খাদ্যের ফলন ৭০ হাজার কোটি কিলোগ্রামেরও বেশি ছিল। সেবছর শাকসবজির ফলন ৮৯ কোটি টনেরও বেশি, ফলের ফলন ৩৫ কোটি টনেরও বেশি, মাংসের উৎপাদন ১০ কোটি টনেরও বেশি এবং জলজ পণ্যের ফলন ৭ কোটি ৬০ লাখ টনেরও বেশি ছিল। বৈচিত্র্যময় খাদ্য সরবরাহের পেছনে রয়েছে চীনের উন্নত প্রযুক্তি।

সম্প্রতি শস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি এবং সামুদ্রিক মৎস্য খাতের তিনটি জাতীয় জার্মপ্লাজম ব্যাংকের জাতীয় কৃষি জার্মপ্লাজম সম্পদ জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে শস্য জার্মপ্লাজম সম্পদে ১ লাখ ৩৯ হাজার অ্যাকসেশন, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির জিনগত উপাদানে ১০ লাখ ৭০ হাজার অ্যাকসেশন এবং জলজ পণ্যে ১ লাখ ২০ হাজার অ্যাকসেশন যুক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া, সুবিধাভিত্তিক কৃষি ‘আবহাওয়ার ওপর নির্ভরতার’ নীতি ভেঙে দিচ্ছে এবং মোট সবজি উৎপাদনের ৩০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে। ভার্টিক্যাল ফার্ম থেকে শুরু করে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত শাকসবজি পর্যন্ত, সবজি চাষ বাতাস, দেয়াল এবং সমস্ত উপলব্ধ স্থান থেকে ‘ফলন খুঁজছে’।

গভীর সমুদ্র থেকেও খাদ্য সরবরাহ বাড়ছে। ফুচিয়ান প্রদেশের লিয়েনচিয়াং জেলায় গভীর সমুদ্রের মৎস্যচাষ প্ল্যাটফর্মে কয়েক ডজন মিটার গভীর জলে বড় আকারের হলুদ ক্রোকার মাছের চাষ হয়। এসব অফশোর মৎস্যচাষ প্ল্যাটফর্ম ১৬ মাত্রার বেশি টাইফুনও সহ্য করতে পারে।

বস্তুত, ‘খাদ্য সম্পর্কে সর্বাঙ্গীন দৃষ্টিভঙ্গি’ ধারণার সাহায্যে চীনাদের খাদ্য আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে।

সূত্র: অনুপমা/আলিম/শিশির, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।



  
  সর্বশেষ
চীনের আধুনিক শিল্প ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন দেখলেন ১৮ দেশের সাংবাদিকরা
শস্য থেকে গভীর সমুদ্র, খাদ্য সরবরাহের পরিধি বাড়াচ্ছে চীন
মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদিতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনা মোতায়েন
অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার সময় গ্যারেজে আগুন, পুড়ল ১২ যানবাহন

প্রকাশক ও সম্পাদক : ফাতেমা ইসলাম তানিয়া
সম্পাদক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরেরপুল ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ।
২১৯ ফকিরেরপুল (১ম গলি ২য় তলা), মতিঝিল ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত । মোবাইল : ০১৮৩৪-৮৯৮৫০৪ ই-মেইল :
E-mail : alordiganto2021@gmail.com