খাদেমুল মোরসালিন শাকীর, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ ভাগ্য বদলাতে শীতকালীন ফসল আলু বপন ও জমি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের চাষিরা। আগাম আমন ধান কেটে আলু চাষে উৎসব মুখর পরিবেশে চলছে প্রস্তুতি। গত বছরে সেভেন জাতের আগাম আলুতে ৫৫-৬০ দিনে বিঘা প্রতি ৩৫-৪০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে কৃষকের। ফলে আগাম আলু চাষ এই এলাকার কৃষকের ভাগ্য বদলের ফসলে রূপ নিয়েছে। এ বছরও সেভেন জাতের আলুতে অধিক লাভের আশায় আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কিশোরগঞ্জ উপজেলার আলু চাষিরা। তাই তারা উঁচু জমিতে সেভেন জাতের আলু বপনের কাজ শুরু করেছেন উৎসব মুখর ভাবে। ফলে কৃষক এবং আলু শ্রমিকরা খুশিতে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জানা গেছে, সেভেন জাতের আলু স্থানীয় একটি আলুর জাত। জাতটি শীতের আগে বপণ করলেও তেমন ক্ষতি হয় না। ফলনও হয় ভালো। গত বছর দেশের বাজারে প্রথম এই আলু ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। তাই নভেম্বর মাসের শুরুতে আলু বপনের উপযুক্ত সময় হলেও এ বছর সেপ্টেম্বরের শেষ সময় হতে আগাম আলুর বীজ বপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলায় ৬ হাজার ৬ শত ৭০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম আলুই চাষ হবে ৪ হাজার ৪ শত হেক্টর জমিতে। কৃষকরা ইতোমধ্যে বপন শুরু করেছেন। গত বছর আগাম আলু চাষ করে কৃষকরা লাভের মুখ দেখায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু চাষ হতে পারে।
শীতের শুরুতে বাজারে নতুন আলুর চাহিদা বেশি থাকায় এখানকার কৃষকরা বেশি দাম পাওয়ায় লাভবান হন। এছাড়া কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা স্থানীয় সেভেন জাতের আগাম আলু চাষ করে থাকেন, যা বপন থেকে ৫৫ থেকে ৬০ দিন বয়সে উত্তোলন করা যায়। এই অল্প সময়ে আলুতে কৃষকরা যা লাভবান হয় তা অন্য কোন চাষ করে লাভবান হয় না। ফলে এ বছর সময়ের আগেই ফসলের মাঠে আগাম আলু চাষে ধুম পড়েছে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের খোকন মিয়া বলেন,গত বছর আগাম আলুতে মোটামুটি লাভবান হয়েছি। প্রতি কেজি আলু বিক্রি করেছি ৯০-১০০ টাকা। নিজের চাষ করা বীজ থাকার কারণে এ বছর আলুতে খরচ কম হবে। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে ভারী বৃষ্টি না হলে আলু চাষে ক্ষতির কোন প্রভাব পড়বে না।
একই এলাকার আলু চাষি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,আমার ১২ বিঘা জমিতে আলু লাগানোর কাজ চলছে। আল্লাহর রহমতে ভারী বৃষ্টি না হলে আলু চাষ করে লাভবান হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এই এলাকার অনেক আলু চাষি আলু চাষাবাদ করে অনেক লাভবান হয়েছে। তারা আলু বিক্রি করে জমি কিনে। বাড়ী পাকা করে। আলু বিক্রি শেষে অনেকেই বাড়ী গাড়ী কিনে।
আলু চাষের জমিতে কাজ করা শ্রমিক রফিকুল ইসলাম, টিটুল মিয়া,একরামুল হক বলেন,গত দুইমাসে কোন কাম কাজ না থাকায় খুব কষ্টে সংসার চালিয়েছি। এখন কাজ করে সংসার ভালই চলছে। পরিবার নিয়ে বেশ ভালো দিন যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, দেশের প্রথম আলু বপন ও উত্তোলন হয় এই এলাকায়। এখানকার আলু বাজারে প্রথম আসায় চাষিরা বেশ লাভবান হন। আগাম ধানে ভালো ফলন পেয়ে কৃষকরা যেমন খুশি, ওই জমিতে আবার সেভেন জাতের আগাম আলুতে লাভবানের আশায় বপন শুরু করেছেন। এই জাতের আলু কিশোরগঞ্জের কৃষকদের জন্য শুধু আশীর্বাদ নয়, ভাগ্যবদলের ফসল। এ বছর চাষিরা সেভেন জাতের পাশাপাশি কারেজ লাল আলু বপনও করছেন। এর চাহিদা থাকায় সেভেন জাতের মতো লাভবান হওয়ার আশা করছেন চাষিরা।