যশোরে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০১ জন ডেঙ্গু রোগী। এর বাইরে বেসরকারি পর্যায়েও শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শুধু যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালেই পুরাতন ও নতুন রোগী মিলিয়ে অর্ধশত ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যশোর জেলা সিভিল সার্জন অফিস এই তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে জেলায় নতুন করে ৩২ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অভয়নগরে ১০ জন, বাঘারপাড়ায় ৬ জন, ঝিকরগাছায় ১ জন, কেশবপুরে ৮ জন, মণিরামপুরে ৪ জন, শার্শায় ৩ জন এবং সদর উপজেলায় ৪ জন রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮৮ জনে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ১৬৬ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর থেকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে ১৯ জনকে। চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডের নির্ধারিত শয্যার বাইরে পুরুষ ও নারী মেডিসিন ওয়ার্ডেও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে বর্তমানে ১০০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গু ওয়ার্ড ও পুরুষ-নারী মেডিসিন ওয়ার্ড মিলিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫১ জন।
হাসপাতালের বহির্বিভাগে এদিন চিকিৎসা নিয়েছেন ২৩২ জন পুরুষ ও ৩১১ জন নারী। তাদের অধিকাংশই জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন শাফায়েত বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদাভাবে ২০ শয্যা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেককে নারী ও পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স কাজ করছেন। বর্তমানে ওষুধ বা স্যালাইনের কোনো সংকট নেই।
তিনি আরও বলেন, মানুষ সচেতন না হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ জন্য সবাইকে এখনই সতর্ক হতে হবে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।