শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   আন্তর্জাতিক
চীনের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন ও স্থিতিস্থাপকতার ছাপ
  Date : 21-08-2026
Share Button

আন্তর্জাতিক: রোববার, ১৭ আগস্ট বছরের প্রথম সাত মাসের জন্য চীনের আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর থেকে আন্তর্জাতিক মহলে এ ধরনের মন্তব্য শোনা যাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত, চীনের উত্পাদন, পরিষেবা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যসহ প্রধান অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল চীনা অর্থনীতির শক্তিশালী সহনশীলতা ও প্রাণশক্তিই প্রদর্শন করে না, বরং মন্থর বিশ্ব অর্থনীতিতেও গতি সঞ্চার করে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে; আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়; এবং বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে চলতি বছরের জন্য বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.১ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে: এমন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চীনের অর্থনীতি কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? ক্রমশ উন্নত হচ্ছে? চীনা অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কী?

চীনের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদের অধ্যাপক ওয়াং সিও সোং সিএমজি-কে বলেন, বছরের প্রথম সাত মাসে বিভিন্ন বাহ্যিক ধাক্কা এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়ে, চীনের নীতিনির্ধারকরা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছেন এবং আরও সক্রিয় ও কার্যকর সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের ওপর মনোযোগ দিয়েছেন; ক্রমাগত সংস্কারকে গভীরতর করেছেন এবং উচ্চ-স্তরের উন্মুক্তকরণকে প্রসারিত করেছেন।

দেখা গেছে, চীনা অর্থনীতিতে তিনটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে: স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন এবং স্থিতিস্থাপকতা। সর্বোপরি, চীনের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক সত্তা হিসেবে, চীনের কাছে সবচেয়ে সম্পূর্ণ শিল্পব্যবস্থা এবং একটি বিশাল বাজার রয়েছে। চীনের কিছু অংশে সাম্প্রতিক ঘন ঘন চরম আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্ত্বেও, অর্থনীতি একটি স্থিতিশীল এবং প্রগতিশীল উন্নয়নের ধারা বজায় রেখেছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে, নির্ধারিত আকারের চেয়ে বড় শিল্পগুলোর সংযোজিত মূল্য, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে যন্ত্রপাতি উত্পাদন এবং উচ্চ-প্রযুক্তি উত্পাদনের সংযোজিত মূল্য যথাক্রমে ৯.৭% এবং ১৩.৮% বৃদ্ধি পেয়ে শিল্প ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভোক্তা-বাজার হিসেবে, চীনের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা, বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রত্যাশা যোগায়। উল্লেখ্য যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সবুজ স্বল্প-কার্বন প্রযুক্তির মতো উদীয়মান শিল্পগুলোর দ্রুত বিকাশের সাথে সাথে, চীনের অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তিগুলো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। জুলাই মাসের শেষে, সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সভায়, পুরোনো ও নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিগুলোর রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করার প্রস্তাব করা হয়। বছরের প্রথম সাত মাসে, নতুন চালিকাশক্তিগুলো নির্দিষ্ট আকারের চেয়ে বড় শিল্পগুলোর প্রবৃদ্ধিতে ৫০% অবদান রেখেছে; শিল্প রোবটের উত্পাদন গত বছরের অনুরূপ সময়ের চেয়ে ২৮.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে; থ্রিডি প্রিন্টিং সরঞ্জাম এবং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির উত্পাদন যথাক্রমে ৫২.৩% এবং ৪০.২% বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের একাধিক তথ্য-উপাত্ত ইঙ্গিত দেয় যে, চীনের উত্পাদন শিল্প, শিল্প ও মূল্য শৃঙ্খলের মধ্যম থেকে উচ্চ স্তরের দিকে তার রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন চালিকাশক্তির সহায়ক ভূমিকা ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে।

শক্তিশালী উদ্ভাবনী প্রাণশক্তি চীনে ক্রমাগত বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে। চীনা অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতাও বহির্বিশ্বের ওপর গভীর ছাপ ফেলে। বৈদেশিক বাণিজ্যের উদাহরণ দিলে দেখা যায়, ক্রমবর্ধমান বাহ্যিক অনিশ্চয়তা এবং সংরক্ষণবাদসহ নানান চ্যালেঞ্জের মুখেও, বছরের প্রথম সাত মাসে চীনের মোট আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির শক্তিশালী স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করে এবং বিশ্বে মূল্যবান নিশ্চয়তা যোগায়। এটি আবারও প্রমাণ করে যে, চীন বিশ্বব্যাপী একাধারে একজন শীর্ষ "ক্রেতা" এবং একজন শীর্ষ "বিক্রেতা"।

নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তির বিকাশ ও সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের গভীরতা বৃদ্ধি, এবং সামষ্টিক নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে, চীনের অর্থনীতি নতুন, উন্নততর ও আরও ইতিবাচক দিকে ক্রমাগত এগিয়ে যাবে এবং ‘পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’র একটি ভালো সূচনা অর্জনের জন্য সচেষ্ট থাকবে। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতেও আরও সুযোগ নিয়ে আসবে বলে আশা করা যায়।

সূত্র: লিলি-আলিম,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।



  
  সর্বশেষ
ইকুয়েডরের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও বাস্তব সহযোগিতা জোরদারে চীনের আগ্রহ
চীনের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন ও স্থিতিস্থাপকতার ছাপ
সি`আনের ঐতিহ্য ও আধুনিকতায় বাংলাদেশ-চীন সাংস্কৃতিক বন্ধনের নতুন অভিজ্ঞতা
চীনে প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণ কূটনীতিকরা

প্রকাশক ও সম্পাদক : ফাতেমা ইসলাম তানিয়া
সম্পাদক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরেরপুল ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ।
২১৯ ফকিরেরপুল (১ম গলি ২য় তলা), মতিঝিল ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত । মোবাইল : ০১৮৩৪-৮৯৮৫০৪ ই-মেইল :
E-mail : alordiganto2021@gmail.com