গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে নকআউট পর্বে পা রেখেছে ব্রাজিল। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই দুর্দান্ত জয় এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ভীষণ সন্তুষ্ট সেলেসাওদের কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘টিভি গ্লোবো’কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় আনচেলত্তি বলেন, দলের মূল লক্ষ্য ছিল আগের ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রেখে আরও সংগঠিত ফুটবল খেলা। তার মতে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল শুধু কাঙ্ক্ষিত ফলই পায়নি, মাঠজুড়ে ছিল ছন্দ, নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন।
আনচেলত্তির ভাষ্য অনুযায়ী, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের তুলনায় এবার দল অনেক বেশি পরিণত ও গোছানো ফুটবল খেলেছে। আক্রমণভাগ তৈরি থেকে শুরু করে বলের দখল ধরে রাখা— সব ক্ষেত্রেই খেলোয়াড়রা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। তাই এই জয়কে তিনি নকআউট পর্বের আগে দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল নেইমারের প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর আবারও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন দেশের অন্যতম সেরা এই তারকা। দীর্ঘ চোট ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পেরিয়ে জাতীয় দলে ফিরে আসা নেইমারকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ব্রাজিল শিবির।
আনচেলত্তি মনে করেন, নেইমারের উপস্থিতি শুধু একজন খেলোয়াড়ের প্রত্যাবর্তন নয়, বরং পুরো দলের জন্য বাড়তি শক্তির উৎস। তার মতে, ব্রাজিলের আক্রমণভাগ আরও বৈচিত্র্যময় ও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে নেইমারকে ঘিরে। কোচের বিশ্বাস, প্রতিযোগিতার বাকি অংশে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নেইমারের পাশাপাশি পুরো দলের মানসিকতা নিয়েও সন্তুষ্ট আনচেলত্তি। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, খেলোয়াড়দের দলগত সমন্বয়ই ছিল ম্যাচের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। ব্রাজিল আক্রমণে ওঠার সময় একাধিক খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে রূপান্তরও ছিল বেশ দ্রুত ও কার্যকর।
স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে তারা। একই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় নকআউট পর্বে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থান থেকে পরবর্তী মিশন শুরু করবে ব্রাজিল। নেইমারের প্রত্যাবর্তন, আক্রমণভাগের ধার এবং দলের ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাস— সব মিলিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে সেলেসাওরা এখন আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের জানান দিল।