রাজধানীর আদ-দীন হাসপাতালে সম্প্রতি ছয়টি নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. শেখ মহিউদ্দিন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। পরিচালক পর্ষদ এই দায়িত্ব অধ্যাপক জামালুন্নেসাকে অর্পণ করেছে। একই সাথে, আদ-দীন ফাউন্ডেশন হাসপাতালের পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান আদ-দীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক শিশু মৃত্যুতে আদ-দীন পরিবার গভীর ভাবে শোকাহত।ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে কর্তব্যে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, হাসপাতালের তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা জোরদার করা এবং চিকিৎসা প্রোটোকল পুনর্মূল্যায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফাউন্ডেশন আরও জানায় যে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আলো-বাতাস চলাচল এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিন জন স্বাধীন পরামর্শকের নেতৃত্বে কাজ চলছে। এছাড়াও, কর্পোরেট অফিসের ওপরে অবস্থিত বেকারিটিও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ড. শেখ মহিউদ্দিন নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।এরপর পরিচালনা পর্ষদ অধ্যাপক জামালুন্নেসাকে নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
অধ্যাপক জামালুন্নেসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের একজন প্রাক্তন শিক্ষিকা।তিনি ওই বিভাগে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৮৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।পরবর্তীতে তিনি লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। আদ-দিন ফাউন্ডেশন জানিয়েছে যে, ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে এর ৯টি হাসপাতাল, ৫টি মেডিকেল কলেজ, একটি নার্সিং কলেজ, ৪টি নার্সিং ইনস্টিটিউট, একটি স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট, একটি কলেজিয়েট স্কুল এবং বেশকয়েকটি ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, আদ-দিন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গত ২৯ বছরে প্রায় ১.৫৭ কোটি রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছে। চলতি বছরের ১১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২,০০০ রোগী বহির্বিভাগে সেবা পেয়েছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১,৭৯০ জন ডাক্তার, নার্স ও কর্মী কর্মরত আছেন, যাদের অধিকাংশই নারী। এছাড়াও, মেডিকেল কলেজটিতে ২০৯ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ মোট ৬৪৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন।
বিবৃতির শেষে, আদ-দিন ফাউন্ডেশন রোগীর নিরাপত্তা, মানসম্মত চিকিৎসা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।