কামরুল হাসান : বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি. রেটো রেঙ্গলি (Mr. Reto Renggli)।
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিকভাবে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে বিমান পরিবহন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি।
বৈঠকে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিমান খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে এ খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
আলোচনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে সুইস প্রতিষ্ঠান ‘সুইসপোর্ট’ (Swissport)-এর আগ্রহের বিষয়টিও উঠে আসে। রাষ্ট্রদূত জানান, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের বিমান খাতে কাজ করতে আগ্রহী।
এ বিষয়ে মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রাপ্ত প্রস্তাব সরকারের নীতিমালা ও জাতীয় স্বার্থের আলোকে যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকারের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগবান্ধব নীতির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান খাত এখন বিদেশি অংশীদারদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি, যাত্রীসেবার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার সম্পর্ক শুধু উন্নয়ন সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়; বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সার্বিকভাবে, এ বৈঠককে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং বিমান খাতে আধুনিক ও টেকসই সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।