আন্তর্জাতিক: উত্তর-পশ্চিম চীনের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের তরুণ কৃষক গার্নি এমেট, উদ্ভাবনী রোপণ কৌশল নিয়ে ও নতুন জাত প্রবর্তনে তুলা চাষিদের ফলন ও আয় বাড়াতে সাহায্য করার জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর, এমেট নিজ শহরে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এ পর্যন্ত তিনি এখানে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করেছেন। কিন্তু, তিনি অন্য কৃষকদের সাহায্য করতে কখনও দ্বিধা করেন না, সবসময় তাদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেন।
এমেট সাংবাদিককে বলেন, বছরের দুটি সবচেয়ে ব্যস্ত সময় আছে। প্রথমটি হলো বসন্তের শুরুতে চারা রোপণের মৌসুম। চলতি বছরে আমি প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করেছি। আমি নিজে চারা রোপণ করেছি এবং অন্যদেরও সাহায্য করেছি। চারা রোপণের সময়টা খুব ছোট—সবকিছু শেষ করার জন্য মাত্র ২৫ দিন সময়। অন্য কৃষকরা আমার চেয়ে কম আয় করেন। যদি তাদের বসন্তের চারা রোপণ ভালোভাবে না হয়, তবে সারা বছরের সমস্ত পরিশ্রম বৃথা যায়। তাই, আমি প্রথমে অন্য কৃষকদের রোপণকাজে সাহায্য করেছি এবং তারপর আমার নিজের জমিতে রোপণ করেছি। একটি সফল চারা রোপণ এবং তুলার ভালো গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু করেছি।
এমেটের রোপণপদ্ধতি ক্রমাগত শেখার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং মাটির অবস্থা, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও ফসলের নিরন্তর পরিবর্তনশীল চাহিদার ওপর নির্ভর করে তা সতর্কতার সাথে সমন্বয় করা হয়। এমেট বলেন, বসন্তে বীজ বপন থেকে শরতে ফসল কাটা পর্যন্ত তুলা চাষ একটি অবিরাম শেখার প্রক্রিয়া। প্রতিটি জমিই আলাদা, তা বেলে মাটি হোক বা এঁটেল মাটি। আমি মাটির ধরন, আবহাওয়া এবং তুলার বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে সেচ, সার প্রয়োগ ও অন্যান্য দিকগুলো সমন্বয় করি।
সিনচিয়াংয়ে অনেক কৃষকই পরিবর্তনের ব্যাপারে সতর্ক থাকেন, কিন্তু কৃষিপদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ক্ষেত্রে এমেটের আগ্রহ তাকে এক বিরল ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
সিনচিয়াং উৎপাদন ও নির্মাণ কোরের তৃতীয় বিভাগের কৃষি বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ খং সিয়ান হুই এমেটের নতুন তুলার জাত গ্রহণের সাহসী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বেশিরভাগ কৃষকই দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। কিন্তু যদি তাঁরা দেখেন যে তাদের প্রতিবেশী এটি ব্যবহার করে সফল হয়েছে, তাহলে তাঁরাও পরের বছর এটি চেষ্টা করে দেখবেন। এমেটের মতো সাহসী মানুষ খুব বেশি নেই।
এমেটের প্রবর্তিত অন্যতম প্রধান উদ্ভাবন ছিল ড্রিপ ইরিগেশন। এটি একটি জল-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, যা শুরুতে সংশয়ের জন্ম দিয়েছিল। খং বলেন, কোনো কোনো কৃষক শুরুতে ড্রিপ সেচ ব্যবহারে অনিচ্ছুক ছিলেন। ড্রিপ টেপটি মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হয়, তাই উপরিভাগে জল দেখা যায় না। অনেকেই অস্বস্তি বোধ করতেন, কারণ তাঁরা জল দেখতে পেতেন না এবং ভাবতেন যে জল যথেষ্ট নয়। কেউ কেউ তো মাটিতে জল ঢোকা দেখার জন্য ড্রিপ টেপটি কেটেও ফেলতেন। কিন্তু এমেট সাহসিকতার সাথে পরীক্ষা চালিয়েছিলেন এবং উল্লেখযোগ্য ফলাফল অর্জন করেছেন।
এমেট বলেন, বসন্তের শুরুতে অনেক কৃষকই এই ধারণাটি বুঝতেন না। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, আমি এটি চেষ্টা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিই। শেষ পর্যন্ত, এটি আমাদের অনেক টাকা ও জলসম্পদ বাঁচিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখন চারা গজানোর হার অনেক বেশি। আগে লবণাক্ত-ক্ষারীয় জমিতে চারা গজানোর হার মাত্র ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। এখন সেই একই লবণাক্ত-ক্ষারীয় জমিতে ‘শুকনো বপন ও ভেজা বপন’ কৌশল ব্যবহার করে চারা গজানোর হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সূত্র: ছাই-আলিম-ওয়াং হাইমান,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।