আন্তর্জাতিক: কিরগিজস্তান সময় ৩১ আগস্ট বিকেলে, ২০২৬ সালের শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের অবকাশে বিশকেকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিওয়েভের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠককালে সি চিন পিং বলেন, এ বছর চীন ও উজবেকিস্তানের মধ্যে সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার দশম বার্ষিকী। দুই দেশের নেতাদের যৌথ নির্দেশনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমাগত উন্নত হয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং চীন-উজবেকিস্তান অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চীন উজবেকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা সুসংহত করতে, পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা গভীর করতে এবং যৌথভাবে চীন-উজবেকিস্তান সম্পর্কের নতুন ‘সোনালি দশক’ তৈরি করতে ইচ্ছুক।
সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন-উজবেকিস্তান বন্ধুত্ব গভীর করার বিষয়ে চীনের অবস্থান অটল থাকবে। চীন বরাবরের মতোই উজবেকিস্তানকে তার নিজস্ব জাতীয় পরিস্থিতির উপযোগী একটি উন্নয়ন পথ অনুসরণে সমর্থন করবে।
তিনি বলেন, চীন-কিরগিজস্তান-উজবেকিস্তান রেলপথ নির্মাণে উচ্চমানের অগ্রগতি অর্জন করা উচিত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মরুকরণ নিয়ন্ত্রণের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রসারিত করা উচিত। দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের আদান-প্রদানের সক্রিয় গতি বজায় রাখা, একে অপরের দেশে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন জোরদার এবং জনগণের মধ্যে বিনিময়কে উৎসাহিত করতে শিক্ষা, দারিদ্র্য হ্রাস ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে চীন ও উজবেকিস্তানের যৌথভাবে থিয়েনচিন শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল বাস্তবায়নে সহায়তা করা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া উচিত বলেও উল্লেখ করেন সি চিন পিং।
মিরজিওয়েভ প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে চীনের উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক সাফল্য অর্জনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, উজবেকিস্তান চীনা ধাঁচের আধুনিকায়নের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।
উজবেকিস্তান ও চীনের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে এবং তারা সবসময় একে অপরকে বোঝে ও সমর্থন করে। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞা উজবেকিস্তান-চীন সম্পর্কের জন্য ব্যাপক ক্ষেত্র উন্মুক্ত করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিস্তৃত উন্নয়নে পথ দেখিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মিরজিওয়েভ বলেন, উজবেকিস্তান চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে এই প্রতিশ্রুতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। উজবেকিস্তান চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা গভীর করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারিত করা, কৃষি, পরিবহন, জ্বালানি, খনি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কে উৎসাহিত করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, উজবেকিস্তান যৌথভাবে ‘তিনটি অশুভ শক্তির’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বৃহত্তর উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী। উজবেকিস্তান দৃঢ়ভাবে এক চীন নীতি মেনে চলে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রস্তাবিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগকে উচ্চভাবে স্বীকৃতি দেয় এবং শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় চীনের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক।
ছাই ছি, ওয়াং ই এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: লিলি-তৌহিদ-স্বর্ণা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।