আন্তর্জাতিক: স্থানীয় সময় ৩১ আগস্ট বিকেলে, বিশকেকে ২০২৬ সালের শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট উখনাগিন খুরেলসুখের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেন, চীন ও মঙ্গোলিয়া পর্বত-নদী দ্বারা সংযুক্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্র। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক সহায়তা ও সহযোগিতামূলক জয়-জয় সম্পর্ক সবসময়ই দুই দেশের সম্পর্কের মূলধারা ও ভিত্তি। চীন তার প্রতিবেশী কূটনীতিতে মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাখবে এবং মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে একযোগে কাজ করে কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা সুসংহত করবে, পারস্পরিক উপকারী সহযোগিতা গভীর করবে, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করবে, দুই দেশের সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চার করবে এবং চীন-মঙ্গোলিয়া অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি গঠনে এগিয়ে যাবে।
প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, উভয় পক্ষকে চীন-মঙ্গোলিয়া সম্পর্কের উন্নয়নের রাজনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে হবে, একে অপরের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে এবং একে অপরের মূল স্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগকে সম্মান জানাতে হবে।
চীন মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় জোরদার করতে, বাণিজ্য, সংযোগ স্থাপন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের মতো ঐতিহ্যবাহী সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এবং সবুজ খনিজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল অর্থনীতির মতো উদীয়মান খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা উন্মোচন করতে চায়। এর মাধ্যমে আরও বেশি পারস্পরিক উপকারী সহযোগিতার প্রবৃদ্ধি তৈরি এবং নিজ নিজ আধুনিকায়নের পথে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সি চিন পিং আশা প্রকাশ করেন, মঙ্গোলিয়া চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করবে। উভয় পক্ষকে বহুপক্ষীয় সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করতে হবে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট উখনাগিন খুরেলসুখ বলেন, মঙ্গোলিয়া ও চীন বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, দুই দেশ সবসময় একে অপরকে সম্মান, বিশ্বাস ও সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক বজায় রেখেছে। চীনের উন্নয়ন প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে এবং এশিয়া ও বিশ্বের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেয়।
মঙ্গোলিয়ার বৈদেশিক নীতির প্রাথমিক দিকনির্দেশনা হলো চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা গভীর করা। মঙ্গোলিয়া চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা ক্রমাগত সুদৃঢ় করতে, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, কৃষি, খনিজ ও সবুজ অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা ঘনিষ্ঠ করতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ইচ্ছুক।
মঙ্গোলিয়া দৃঢ়ভাবে এক চীন নীতি মেনে চলে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সিনচিয়াং, সিচাং ও হংকং-সম্পর্কিত বিষয়গুলো সবই চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে।
প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্থাপিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ ও মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গঠনের ধারণা বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, টেকসই উন্নয়ন প্রচার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন খুরেলসুখ। মঙ্গোলিয়া চীনের সঙ্গে একযোগে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করতে চায় বলেও জানান তিনি।
সাক্ষাতে চীনা নেতা ছাই ছি ও ওয়াং ই প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: স্বর্ণা-তৌহিদ-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।