আন্তর্জাতিক: চীনের বৈশ্বিক প্রশাসন উদ্যোগ, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উত্থাপনের পর থেকে, কেন বিশ্বের নানান দেশের নানান মহলের সমর্থন পেয়ে আসছে? চীন সরকার ১৭ জুন “আরও ন্যায্য ও যৌক্তিক বৈশ্বিক প্রশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা: চীনের ধারণা, উদ্যোগ ও কার্যকলাপ” শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। এর মধ্যে উপরের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে।
শ্বেতপত্রে সুস্পষ্টভাবে, বৈশ্বিক প্রশাসন উদ্যোগের প্রেক্ষাপট ও অর্থ ব্যাখা করা হয়েছে। এতে সার্বিকভাবে বৈশ্বিক প্রসাশন ব্যবস্থার সংস্কার ও নির্মাণে চীনের অংশগ্রহণ ও কার্যকলাপকে তুলে ধরেছে। পাশাপাশি, শ্বেতপত্রটি বৈশ্বিক প্রশাসনবিষয়ক চীনের লক্ষ্য, নীতি, অবস্থান, কার্যকলাপ, ও পরিকল্পনাকে আরও সুষ্ঠুভাবে ব্যাখা করেছে। এতে, বৈশ্বিক প্রশাসন উদ্যোগের মূল্য সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সমাজের বোঝাপড়া বৃদ্ধি পেয়েছে।
বতর্মানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে জটিল পরিবর্তনের মুখে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বৈশ্বিক প্রশাসন উদ্যোগ প্রস্তাব করেন। এতে, কী ধরনের বৈশ্বিক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে? কিভাবে বৈশ্বিক প্রশাসনকে সংস্কার ও উন্নত করা যাবে?—এমন প্রশ্নের চীনা উত্তর দিয়েছে। এ উদ্যোগ নানান দেশের বৈশ্বিক প্রশাসন উন্নয়নের অভিন্ন চাহিদাকে আমলে নিয়েছে এবং মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সম্প্রসারিত করেছে। আর এ কারণেই, এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সমাজের ব্যাপক সমর্থন ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। উত্থাপনের মাত্র ৯ মাসের মধ্যে, বৈশ্বিক প্রশাসন উদ্যোগ চীনা প্রস্তাব থেকে আন্তর্জাতিক বাস্তবায়নের পথে চলা শুরু করেছে; দেখেয়ে চলেছে শক্তিশালী প্রাণশক্তি।
বতর্মানে, বিশ্ব নতুন পরিবর্তনশীল সময়কালে প্রবেশ করেছে। মানবজাতিকে আগের যে-কোনো সময়ের চেয়ে, বহুপাক্ষিকতা উন্নত করতে হবে, আইনের শাসন মেনে চলতে হবে, এবং প্রশাসনে দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে।
বৈশ্বিক প্র্রশাসন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে চাইলে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দৃঢ়ভাবে জাতিসংঘের অবস্থানকে রক্ষা করা। শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ হচ্ছে বহুপাক্ষিকতা বাস্তবায়ন ও বৈশ্বিক প্রশাসন এগিয়ে নেয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল মঞ্চ। জাতিসংঘের অবস্থান জোরদার করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক প্রশাসন উদ্যোগ জাতিসংঘের সনদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যা অধিকাংশ দেশের বহুপাক্ষিকতাকে সমর্থন করা এবং জাতিসঘের কর্তৃত্ব পুণরুদ্ধারের অভিন্ন প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
আজকের বিশ্ব জটিল ও পরিবর্তনশীল, যা পরিবর্তন করা সহজ নয়। কঠিন হলেও, যদি মন দিয়ে করা যায়, তবে তা সম্ভব। বৈশ্বিক প্রশাসন উদ্যোগের উদ্দেশ্য হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সমাজের অভিন্ন কল্যাণ, যা আন্তর্জাতিক সমাজের অভিন্ন প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করে। চীন অব্যাহতভাবে বিশ্বশান্তির নির্মাণকারী, বিশ্ব উন্নয়নের অবদানকারী, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার রক্ষাকারী, গণপণ্যের সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করবে, বিভিন্ন দেশের সাথে একযোগে বৈশ্বিক প্রশাসন উদ্যোগকে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে।
সূত্র:আকাশ-আলিম-শিশির,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।