আন্তর্জাতিক: ১০ জুন ছংছিংয়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এবং ছংছিং মিউনিসিপাল পিপলস গভর্নমেন্টের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো পঞ্চম সিএমজি মিডিয়া ফোরাম। এবারের প্রতিপাদ্য—‘অটুট আস্থা ও পুনর্নির্মাণ: বুদ্ধিমান যুগে গণমাধ্যমের মিশন’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক এবং বহুজাতিক কোম্পানির প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ছংছিং মিউনিসিপাল কমিটির সেক্রেটারি ইউয়ান জিয়াজুন তার বক্তব্যে বলেন, মিডিয়া উদ্ভাবন এবং সর্বমাধ্যমভিত্তিক জনমত কাঠামো নির্মাণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন সিপিসির সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং।
প্রথম সিএমজি মিডিয়া ফোরামের জন্য পাঠানো একটি শুভেচ্ছাপত্রে তিনি মিডিয়া উন্নয়নের দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। সি চিন পিং তার ছংছিং সফরকালে যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, ছংছিং সেই চেতনা গভীরভাবে বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, এখানে আধুনিক শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, বৃহৎ শহরের আধুনিক শাসনব্যবস্থার একটি নতুন পথ সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে, শহর-গ্রাম একীভূত উন্নয়ন এবং সামগ্রিক গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, নতুন যুগে একটি সাংস্কৃতিকভাবে শক্তিশালী শহর গঠনের মান উন্নত করা হচ্ছে, সবুজ ও নিম্ন-কার্বন রূপান্তরমুখী উন্নয়ন গভীরভাবে অগ্রসর করা হচ্ছে, এবং চীনা আধুনিকায়নের ছংছিং অধ্যায় রচনায় কাজ করা হচ্ছে।
ছংছিং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর মিডিয়া একীকরণকে এগিয়ে নিতে, একটি উন্নত আন্তর্জাতিক মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে এবং মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণভিত্তিক সমাজ নির্মাণে অবদান রাখতে আগ্রহী বলেও জানান ইউয়ান জিয়াজুন।
চীনের প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এবং সিএমজি (চায়না মিডিয়া গ্রুপ)-এর মহাপরিচালক শেন হাইসিয়োং তার বক্তব্যে বলেন, সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং উল্লেখ করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন একটি আন্তর্জাতিক জনকল্যাণমূলক সম্পদ হওয়া উচিত, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য উপকারী।
তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সূচনাবর্ষ এবং এটি বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত পর্যায় থেকে দ্রুত শিল্প বাস্তবতায় রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। প্রযুক্তির বিশাল সম্ভাবনাকে জনকল্যাণমূলক যোগাযোগ শক্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুপ্রেরণায় রূপান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সিএমজি। আমরা প্রযুক্তির আলো জ্বালিয়ে সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির নতুন মাত্রা উন্মোচন করছি এবং চীনের অসীম গল্প বলার সক্ষমতাকে নতুনভাবে গড়ে তুলছি।’
শেন হাইসিয়োং আরও বলেন, “সিএমজি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মিডিয়া সহকর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছে—‘ভূমি ও সমুদ্রকে সংযুক্ত করার’ উন্মুক্ত মানসিকতা নিয়ে বুদ্ধিমান যুগে মিডিয়ার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে এবং উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভাগাভাগিভিত্তিক একটি নতুন স্মার্ট ব্রডকাস্টিং কাঠামো গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে, যা মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণভিত্তিক সমাজ নির্মাণে অগ্রগতি আনবে।”
জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ে আচার্য এবং জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব চিলিচি মাওয়ালা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মৌলিকভাবে তথ্য উৎপাদন ও প্রচারের পদ্ধতিকে আমূল বদলে দিচ্ছে। এটি ভাষাগত বাধা দূর করে এবং অভূতপূর্ব গতিতে বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদের কাছে তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সম্প্রতি ‘গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্ট’ চালু করেছে। গণমাধ্যমের দায়িত্বের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যেই সাংবাদিকতা শিল্পকে গভীরভাবে পরিবর্তন করেছে। শেষ পর্যন্ত এই প্রযুক্তি জনকল্যাণে ব্যবহৃত হবে নাকি ক্ষতিকর হবে—তা নির্ধারণ করবে গণমাধ্যমই।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ সবার সঙ্গে কাজ করে এমন একটি ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য কল্যাণকর।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি, বিশ্ব বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সংস্থা, রাশিয়ার অল-রাশিয়া স্টেট টেলিভিশন অ্যান্ড রেডিও ব্রডকাস্টিং কোম্পানি এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রেসিডেন্ট ও সিইওসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মূলধারার গণমাধ্যমের প্রধানরা ভিডিওবার্তার মাধ্যমে ফোরামের প্রতি শুভেচ্ছা জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ফোরাম বৈশ্বিক গণমাধ্যমের মধ্যে বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষা আরও গভীর করবে, বুদ্ধিমান যুগে গণমাধ্যমের মূল্যবোধের দিকনির্দেশনা যৌথভাবে নির্ধারণ করবে, প্রযুক্তি প্রয়োগে দায়িত্বশীলতার সীমারেখা যৌথভাবে মেনে চলবে এবং একটি সুস্থ, উন্মুক্ত ও টেকসই বৈশ্বিক মিডিয়া বাস্তুসংস্থান গড়ে তুলবে।
ফোরামের মূল বক্তৃতা পর্বে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রধান, বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং তরুণ উদ্যোক্তারা বুদ্ধিমান যুগে গণমাধ্যমের দায়িত্ব, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
ফোরামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে ‘পঞ্চম সিএমজি মিডিয়া ফোরামের উদ্যোগ’ ঘোষণা করেন। এ ছাড়া ফোরামে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সিএমজির ডিজিটাল ও বুদ্ধিমান ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প—ইয়াংশিথিং লার্জ মডেল ৩.০-এর ফলাফল।
সূত্র:জিনিয়া-ফয়সল,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।