কামরুল হাসান : দেশের বিমান ও পর্যটন খাতকে আধুনিক, টেকসই ও জনমুখী খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুপরিকল্পিত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেছেন, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের সুফল যেন সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান প্রকল্পগুলোর অবশিষ্ট কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে বিমান ও পর্যটন খাতে নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে তার আর্থিক সক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট দিকগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কেবল ভবন বা স্থাপনা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিনিয়োগ পরিবেশ, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বাস্তবসম্মত ও সুপরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত ঠিকাদারদের কাজের মান, সময়ানুবর্তিতা ও অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, “জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের প্রকৃত সুফল জনগণ পাবে—এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই কাজ করতে হবে।” তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের বিমানবন্দর অবকাঠামো সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকর তদারকি ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সময়মতো বাস্তবায়ন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার-এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের পরিচালকরা।