আন্তর্জাতিক: ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের সাধারণ কমিটি ও পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য তাইওয়ানকে পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব’ সম্মেলনের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। এ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন, টানা ১০ বছর, তথাকথিত তাইওয়ানসংশ্লিষ্ট প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলো। গত (সোমবার) বেইজিংয়ে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনৈক মুখপাত্র, এই তথ্য জানান।
মুখপাত্র বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনসহ সকল আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রমে চীনের তাইওয়ান অঞ্চলের অংশগ্রহণ বিষয়ে চীনের অবস্থান সুসংহত ও সুস্পষ্ট। এ ক্ষেত্রে ‘এক-চীননীতি’ অনুসরণ করতে হবে। এটি জাতিসংঘ সাধারণ সম্মেলনের প্রস্তাবনা ২৭৫৮ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের প্রস্তাবনা ২৫.১ দ্বারাও সমর্থিত একটি মৌলিক নীতি। চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের সম্মতি ছাড়া, চীনের তাইওয়ান অঞ্চলের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে অংশ নেওয়ার ভিত্তি, কারণ ও অধিকার নেই। তাইওয়ানের ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি কর্তৃপক্ষ তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আচরণে অনড় রয়েছে। যার ফলে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে তাইওয়ানের অংশগ্রহণের রাজনৈতিক ভিত্তি নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, চীনের কেন্দ্রীয় সরকার তাইওয়ান অঞ্চলের নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ‘এক-চীননীতি’-র ভিত্তিতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য কার্যক্রমে তাইওয়ান অঞ্চলের অংশ নেওয়ার জন্য, চীনের কেন্দ্রীয় সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তাইওয়ানের চিকিত্সা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রযুক্তিগত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারেন। গত বছর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকাদান কৌশল, টিকা উন্নয়ন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয়ক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য, চীনের কেন্দ্রীয় সরকার তাইওয়ানের মোট ১৮ জন চিকিত্সা-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞকে অনুমোদন দিয়েছে। ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য নীতি’-র ফ্রেমওয়ার্কে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য দেশগুলোর সাথে তাইওয়ানের একটি সাবলীল ও সুপ্রতিষ্ঠিত তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা রয়েছে, যে ব্যবস্থায় তাইওয়ান সময়মতো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি জনস্বাস্থ্য তথ্য পেতে পারে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করতে পারে। পাশাপাশি, চীনের মূল ভূভাগ ও তাইওয়ান অঞ্চলের মধ্যে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের সুষ্ঠু ব্যবস্থা রয়েছে এবং হাসপাতাল পরিচালকদের জন্য ফোরামের মতো কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হয়। এই সবকিছু স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তাইওয়ানের নাগরিকদের স্বাস্থ্যগত সমস্যার প্রতি চীনের কেন্দ্রীয় সরকার আন্তরিক মনোভাব পোষণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে তাইওয়ানের অংশগ্রহণের জন্য কোলাহল সৃষ্টিকারী কয়েকটি দেশের রাজনৈতিক কারসাজির তুলনায়, চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের যথাযথ ব্যবস্থা এবং বাস্তব পদক্ষেপ তাইওয়ানের জনগণের জন্য কল্যাণকর।
মুখপাত্র বলেন, তাইওয়ানের ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি ও গুটিকতক দেশ জাতিসংঘের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবকে বিকৃত করছে এবং ‘এক-চীননীতি’-কে চ্যালেঞ্জ করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে। এটি শুধু চীনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও সর্বজনীন ঐকমত্যের প্রতিও হুমকিস্বরূপ। এই বছরের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে তাইওয়ানের অংশগ্রহণের বিষয়টি চীন প্রত্যাখ্যান করেছে, যা আন্তর্জাতিক সমাজ কর্তৃক সমর্থনপ্রাপ্ত। অধিকাংশ দেশই চীনের কাছে জাতিসংঘ সাধারণ সম্মেলনের প্রস্তাবনা ২৭৫৮-এর প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, ‘এক-চীননীতি’ দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে আসছে, এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে তাইওয়ানের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছে। এটি প্রমাণ করা হয় যে, ‘এক-চীননীতি’ সাধারণ প্রবণতা মেনে চলে এবং ‘এক-চীননীতি’-র প্রতি আন্তর্জাতিক সমাজের অঙ্গীকার প্রশ্নাতীত ও অটল।
সূত্র:অনুপমা-আলিম-শিশির,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।