কামরুল হাসান : দেশের কৃষি, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে আবারও খাল খনন কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। একসময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সারাদেশে পরিচালিত খাল খনন কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান সরকার সেই উন্নয়ন ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখে পুনরায় খাল পুনঃখনন ও পানি প্রবাহ সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি।
সোমবার বিকেলে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় গাজিখালী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনের সঙ্গে নদী-খাল-বিলের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। দীর্ঘদিন খালগুলো অবহেলিত থাকায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা, কৃষিতে সেচ সংকট এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার পুনরায় খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে যে পরিকল্পিত খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, তা একসময় দেশের কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছিল। বর্তমান সরকার সেই বাস্তবমুখী উদ্যোগকে নতুন প্রেক্ষাপটে পুনরুজ্জীবিত করতে চায়।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রী দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, সরকার শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “দেশকে সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই ধরনের বক্তব্য উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়কে এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আফরোজা খানম রিতা এমপি রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। তবে একটি “অপশক্তি” দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “দেশের উন্নয়ন ও মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলো এখন শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এগুলো রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গাজিখালী খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এর আগে মন্ত্রী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও জেলা উন্নয়ন সংক্রান্ত বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশ নেন। পরে মুন্নু সিটিতে তার নিজ জনসংযোগ কার্যালয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এসময় জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আ.ফ.ম নুরতাজ আলম বাহার পিপি,সত্যেন কান্ত পণ্ডিত ভজন, গোলাম আবেদীন কায়সার, গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, আব্দুস সালাম বাদল, রফিক উদ্দিন ভূইয়া হাবু, আসাদুজ্জামান খান দোলন, জাসাস কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির সদস্য ও বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম খান পায়েল, সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিস মাখন,সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার,
সৌদি আরবস্থ মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মাওলানা হারুনুর রশীদ রহমানী,
জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ পারভেজ, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাবিহা হাবিব, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ আব্দুল কাদের, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিন্নাহ খান,জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুর রহমান খান সজীব সহ বিএনপি ও এর সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগন ও বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।