আন্তর্জাতিক, ২১ সেপ্টেম্বর : প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়ায় কেবল সাময়িক ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও সমন্বিত নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনের ওপর জোর দিয়েছেন বিশিষ্ট গবেষক ড. লি ছিওশান। তিনি সিছুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় ও হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ ‘ইনস্টিটিউট ফর ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ (আইডিএমআর)-এর সহযোগী গবেষণা ফেলো হিসেবে কর্মরত।
সোমবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-চীন শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়: দ্বিতীয় রাউন্ড টেবিল’-এর তৃতীয় পর্বের ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস: চীন-বাংলাদেশ অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা’ অধিবেশনে বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বক্তব্যে ড. লি ছিওশান বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেবল জরুরি সাড়াদানের শেষ ধাপ নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের নীতি একদিকে মানুষের জীবিকা রক্ষা করে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে দুর্যোগের ঝুঁকি নির্ধারণ করে।’
২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কায় সুনামির পর উপকূলীয় বাফার জোন তৈরি এবং ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে হারিকেন ক্যাটরিনাপরবর্তী পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “ভুল পরিকল্পনার পুনর্বাসন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ‘জেন্ট্রিফিকেশন’ বা কৃত্রিম জীবনযাত্রার ব্যয় মাথাচাড়া দেয়।”
২০০৮ সালের সিছুয়ান ভূমিকম্পের ওপর পরিচালিত গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি প্রকল্পের দেখান যে, বাহ্যিক পুনর্নির্মাণ সফল মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এলাকাগুলোয় গভীর অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে যায়। এমনকি একই নীতি সত্ত্বেও অঞ্চলভেদে পুনরুদ্ধারের গতি ভিন্ন হয়। ২০২০ সালের বাংলাদেশের বন্যার উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, এতে নিম্নআয়ের মানুষের আয়, স্বাস্থ্য ও খাবারের সংকট তীব্র হয়।
ড. লি ছিওশান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আবাসন, জীবিকা ও সামাজিক সেবাকে সমন্বিত করার আহ্বান জানান। তিনি কেবল ‘গড় অগ্রগতি’ না দেখে অঞ্চলভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সংকট পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি পরিবর্তনের পরামর্শ দেন।
সূত্র: লুৎফর, সাকিব, সিএমজি বাংলা।