আন্তর্জাতিক: চীনের বন্দরগুলোতে মাঝে মাঝেই একটি দৃশ্য দেখা যায়: নতুন জ্বালানিচালিত গাড়ি ও নানান স্মার্ট সরঞ্জাম দিয়ে বোঝাই করা হচ্ছে বিভিন্ন দেশের জাহাজ। বস্তুত, চীনের স্মার্ট পণ্য বিশ্বকে আরও বেশি নতুন ও সবুজ উপাদান উপহার দিচ্ছে।
চীন সরকারের উপাত্ত অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে চীনের পণ্য-বাণিজ্যে আমদানি ও রপ্তানির মোট মূল্য ছিল ৩০.১৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭.৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে রপ্তানি ১৪ শতাংশ এবং আমদানি ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জুলাই মাসে উচ্চ প্রযুক্তিগত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পায় ৫০ শতাংশ, যা রপ্তানির মোট বৃদ্ধির প্রায় ৬০ শতাংশ। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো মনে করে, ক্রমবর্ধমান সুরক্ষাবাদের প্রেক্ষাপটে চীনের বাণিজ্য প্রত্যাশার চেয়ে ভালো। বিশেষ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অগ্রণী ক্ষেত্রগুলোতে অসামান্য পারফরম্যান্স প্রদর্শন করছে চীন।
চীনের বাণিজ্যে এ সুফল অর্জনের কারণ কী? চীনের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়াং সিয়াও সং বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে সুসম্পন্ন শিল্পব্যবস্থা রয়েছে চীনের। এ দেশ কার্যকর সরবরাহ ও বিপুল পরিমাণে আমদানিতে সক্ষম। পাশাপাশি, বৈদেশিক বাণিজ্যের উন্নয়নের জন্য দেশটির রয়েছে উন্নত ভিত্তি। এ ছাড়া, চীনের বড় আকারের বাজারের সুবিধা, উদ্ভাবনের সুবিধা এবং উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণের নীতি বৈদেশিক বাণিজ্যকে এগিয়ে নিচ্ছে।
চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের আকার অব্যাহতভাবে উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর কাঠামোও সবুজের দিকে যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে, চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি, লিথিয়াম ব্যাটারি এবং বায়ুশক্তি জেনারেটর সেটের মতো সবুজ-নিম্নকার্বন পণ্যের রপ্তানি যথাক্রমে ৭১.২ শতাংশ, ৩৫.৮ শতাংশ ও ৩৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চ-স্তরের উৎপাদন-পণ্যসমূহ চীনের রপ্তানি বৃদ্ধিতে নতুন প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করছে। চীনের স্মার্ট পণ্যগুলো বিশ্বের জন্যও কল্যাণ বয়ে আনছে।
চীন শুধু ‘বিশ্ব কারখানা’-র ভূমিকা পালন করছে না, বরং ‘বিশ্ববাজার’ হিসেবেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে, চীনের আমদানি রপ্তানির তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি, বাণিজ্য-অংশীদাররা চীনের বাজার থেকে অসংখ্য অর্ডার, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছে। চীন ইতোমধ্যে ৬৩টি দেশের জন্য ‘শূন্য শুল্ক নীতি’ গ্রহণ করেছে; আমদানিকারক হিসেবে একটানা ১৭ বছর ধরে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
আগামী মাসে ২০২৬ সালের চীন আন্তর্জাতিক পরিষেবা বাণিজ্য মেলা এবং চীন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আলোচনা সভা পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। চীন বিশ্বের সঙ্গে অব্যাহতভাবে বিভিন্ন সুযোগ ভাগাভাগি করছে এবং বিশ্বের উন্নয়নে রাখছে অবদান।
সূত্র: আকাশ-আলিম-আনন্দী, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।