শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   আন্তর্জাতিক
ইতিহাসের শিক্ষা ও বর্তমান বাস্তবতা: জাপানের পুনঃসামরিকীকরণ নিয়ে প্রশ্ন
  Date : 10-07-2026
Share Button

আন্তর্জাতিক: এবারের ৭ জুলাই ছিল ‘লুকৌছিয়াও ঘটনা’-র ৮৯তম বার্ষিকী। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ আবারও সেই রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাচ্ছে। তাঁরা যৌথভাবে কায়রো ঘোষণা, পটসডাম ঘোষণা এবং টোকিও ট্রায়ালের ঐতিহাসিক রায়কে মূল ভিত্তি করে গড়ে ওঠা যুদ্ধোত্তর এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার শপথ পুনর্ব্যক্ত করছে।

এর সম্পূর্ণ বিপরীতে, আজকের জাপান নিজের "শান্তিবাদী সংবিধান"-এর বাধ্যবাধকতা ও আইনি শৃঙ্খল ভেঙে, নিজের "পুনঃসামরিকীকরণ" প্রক্রিয়াকে চরমভাবে গতিশীল করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বহিরাগত শক্তিগুলোর সাথে ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত হওয়ার লক্ষ্যে একটি সুসংগঠিত যুদ্ধ-ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, ইতিহাসের ক্ষত ও শিক্ষা আমাদের চোখের সামনে এখনও জ্বলজ্বল করছে; জাপানের এই "নব্য-সামরিকবাদ" পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নিরাপত্তা এবং এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে এক গভীর সংকট ও বড় ধরনের গোপন আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে।

১৯৩৭ সালের ৭ জুলাইয়ের "লুকৌছিয়াও ঘটনা" ছিল মূলত চীনের ওপর জাপানের পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন ও যুদ্ধ শুরুর আনুষ্ঠানিক সূচনা। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে পরিকল্পিত জাপানের এই বর্বর ও নিষ্ঠুর আগ্রাসন, চীন, কোরীয় উপদ্বীপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এক চরম ধ্বংসাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। চীনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া আগ্রাসী যুদ্ধে, ৩ কোটি ৫০ লাখ চীনা সামরিক-বেসামরিক মানুষ হতাহত হন। নানচিংয়ের নৃশংস গণহত্যা, `ইউনিট ৭৩১` কর্তৃক জীবিত মানুষের ওপর চালানো অমানবিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এবং রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র ব্যবহারের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ, ইতিহাসের বুকে এমন এক গভীর ক্ষত রেখে গেছে, যা মুছে ফেলা অসম্ভব।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, "৭ জুলাইয়ের ঘটনা" কোনো আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ছিল না, বরং এটি ছিল জাপানি সামরিকবাদের দীর্ঘমেয়াদী বাহ্যিক সম্প্রসারণ এবং সুপরিকল্পিত উস্কানির এক অনিবার্য পরিণতি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, আন্তর্জাতিক সমাজ আগ্রাসনের অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে এবং একই ধরনের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধ করার লক্ষ্যে, জাপানের ওপর এক কঠোর যুদ্ধোত্তর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা আইনি কাঠামো চাপিয়ে দিয়েছিল। চীনসহ বিশ্বের ১১টি দেশের বিচার বিভাগীয় শক্তির সমন্বয়ে গঠিত "দূরপ্রাচ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক সামরিক ট্রাইব্যুনাল" সম্পূর্ণ আইনি পন্থায়, জাপানের বহিরাগত যুদ্ধগুলোকে "আগ্রাসী যুদ্ধ" হিসেবে রায় দেয় এবং আগ্রাসনের ইতিহাসকে উল্টে দেওয়ার বা সেই অপরাধকে অস্বীকার করার যেকোনো ধরনের অপচেষ্টাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে।

তবে, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমান সময়ে এসে জাপান সেই যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলার জন্য একের পর এক অত্যন্ত বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং তার তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করছে। নিজেদের "জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তিনটি মৌলিক দলিল" সংশোধন করা, আধুনিক মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, তথাকথিত "শত্রু ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা" গড়ে তোলা, এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা বাজেটকে টানা ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধোত্তর ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ডে নিয়ে যাওয়ার মতো পদক্ষেপগুলো এর স্পষ্ট প্রমাণ। জাপান আজ তার "একচেটিয়া আত্মরক্ষা" নীতিকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে, নিজের "শান্তিবাদী রাষ্ট্রের" মুখোশ পুরোপুরি উন্মোচন করে ফেলেছে। জাপানের ডানপন্থী রাজনীতিবিদরা, এমনকি "সামরিক শক্তিই সবার আগে" নীতি প্রচার করছেন এবং জনসমক্ষে ঘোষণা দিচ্ছেন যে, কূটনীতির মাধ্যমে কৌশলগত লক্ষ্য অর্জিত না-হলে সরাসরি সামরিক শক্তি বা যুদ্ধের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। এই ধরনের বিপজ্জনক চিন্তাভাবনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পূর্ববর্তী জাপানি সামরিকবাদের বাহ্যিক আগ্রাসনের মূল দর্শনের সাথে হুবহু মিলে যায়।

জাপানি সামরিকবাদের সাথে নিজের সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন করা এবং আন্তরিকভাবে একটি শান্তিপূর্ণ ও টেকসই উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়া—এটিই হলো আন্তর্জাতিক সমাজ, বিশেষ করে এশিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর আস্থা ও সহানুভূতি অর্জনের জন্য জাপানের জন্য একমাত্র পূর্বশর্ত। কিন্তু বর্তমানে জাপান যেভাবে নিজের একটি পরাজিত রাষ্ট্রের তকমা মুছে ফেলার চেষ্টা করছে, যুদ্ধের ঐতিহাসিক অপরাধ ও দায়বদ্ধতাকে সরাসরি অস্বীকার করছে, এবং একটি আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি গড়ে তুলছে; তা সরাসরি এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি ও শৃঙ্খলার মূল ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশ্বকে এ ব্যাপারে আরও সতর্ক হতে হবে।

সূত্র:শুয়েই-আলিম-জিনিয়া,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।



  
  সর্বশেষ
কোচিনে ব্রিকস নারী মন্ত্রীদের বৈঠক, গৃহীত হলো যৌথ বিবৃতি
জলবায়ু, এআই ও বহুপাক্ষিকতা নিয়ে সিএমজি-কে বায়েরবকের বিশেষ সাক্ষাৎকার
দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি রায় প্রত্যাখ্যান, আলোচনাভিত্তিক সমাধানে জোর চীনের
চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক জোরদারে সি চিন পিং ও পার্ক থাই-সংয়ের বৈঠক

প্রকাশক ও সম্পাদক : ফাতেমা ইসলাম তানিয়া
সম্পাদক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরেরপুল ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ।
২১৯ ফকিরেরপুল (১ম গলি ২য় তলা), মতিঝিল ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত । মোবাইল : ০১৮৩৪-৮৯৮৫০৪ ই-মেইল :
E-mail : alordiganto2021@gmail.com