কামরুল হাসান : দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে দীর্ঘমেয়াদি, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যায়ে উন্নীত করতে ‘সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে রাজধানীতে “Civil Aviation Master Planning Overview” শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি।
শনিবার (২০ জুন) সকালে রাজধানীর ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালএর বলরুমে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আয়োজিত কর্মশালায় দেশের বিমান চলাচল খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, “বিমান পরিবহন এখন শুধু যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের মাধ্যম নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পর্যটন বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
” তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় একটি আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই বিমান পরিবহন ব্যবস্থা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে একটি সুপরিকল্পিত ও বাস্তবমুখী এভিয়েশন মহাপরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিকল্পনায় দেশের বিমান চলাচল খাতের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের রূপরেখা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকএর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচালনার প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ সময় তিনি বেবিচকের কর্মকর্তাদের এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে দেশের এভিয়েশন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, একটি সমন্বিত ও যুগোপযোগী মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও সক্ষম হয়ে উঠবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পর্যটন শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার করবে।