আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয় বছর পর পুনরায় চীন সফর সর্বমহলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তাঁর সাথে আসা বড় আকারের বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল থেকে বোঝা যায়, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ইস্যুগুলো এই সফরের অন্যতম প্রধান ফোকাস হয়ে উঠেছে। চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সাংবাদিকরা দুজন আমেরিকান ব্যবসায়ীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, যারা চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতায় ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গভীরভাবে জড়িত। তাঁরা চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ এবং চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্রমাগত বৃদ্ধির সাক্ষী হয়েছেন। তাঁদের মতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করলে উভয় পক্ষই উপকৃত হয় এবং তাঁরা আশা করেন যে, এই সফর দ্বিপাক্ষিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কের স্থিতিশীল উন্নয়নে আরও ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে।
ম্যানি বি. মেনেন্দেজ হলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমসিএম হোল্ডিং গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তিনি সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের শুরুতে চীনে আসা প্রথম দিকের মার্কিন ব্যবসায়ীদের একজন। তিনি চীনা উদ্যোগ ও বিশ্বের শীর্ষ ৫০০টি কোম্পানির মধ্যে প্রথম চীন-মার্কিন যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ম্যানি সবসময় চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়াকে নিজের লক্ষ্য হিসেবে দেখেন। গত ৪০ বছরেরও বেশি সময়ে তিনি নিজের চোখে চীনের ব্যবসায়িক পরিবেশের ক্রমাগত উন্নতি এবং উন্মুক্তকরণের দ্রুত অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি চীনের "শান্তিতে মিলেমিশে থাকার" মূল্যবোধ এবং পাঁচসালা পরিকল্পনার সুসংহত অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, "পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা" চীন-মার্কিন সহযোগিতার জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করবে।
`গ্রেট ওয়াল ফ্রেন্ডশিপ অ্যাওয়ার্ড` বিজয়ী বারবারা স্টলজ ৪৭ বছর ধরে চীন-মার্কিন চিকিৎসা সহযোগিতায় গভীরভাবে কাজ করছেন। সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের শুরুতে চীনের সম্ভাবনায় বিশ্বাস করে তিনি বেইজিং আসেন এবং সে সময় চীনের চিকিৎসা শিল্পে প্রথম আলট্রাসাউন্ড, প্রথম এমআরআই এবং প্রথম বেডসাইড মনিটরিং সরঞ্জাম নিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন চায়নার বোর্ড সদস্য এবং ইউনাইটেড ফ্যামিলি হেলথকেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি মনে করেন, চীন শুধু বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জালই তৈরি করেনি, বরং ধীরে ধীরে জৈব চিকিৎসা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিচ্ছে। চীন-মার্কিন চিকিৎসা খাতে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা হলো চীন-মার্কিন সম্পর্কের "ভিত্তি"। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মোট অর্থনৈতিক আকার বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এবং পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। চীন-মার্কিন পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া উভয় দেশের এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। কিছু থিংক ট্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীন-মার্কিন বাণিজ্যের ওঠানামা বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি সরাসরি প্রায় ১০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। চীনে অবস্থিত মার্কিন ব্যবসায়ী মহল জোর দিয়ে বলে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও কেবল বিনিময় ও সহযোগিতার মাধ্যমেই তারা আরও বিস্তৃত উন্নয়ন সম্ভাবনা অর্জন করতে পারে।
৯ বছর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পুনরায় চীন সফর উপলক্ষে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে, উভয় পক্ষ অর্থনীতি ও বাণিজ্যে অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে, বিশেষ করে শুল্ক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। এ ছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শাসনব্যবস্থা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার হওয়া উচিত বলে তাঁরা মনে করেন।
আন্তর্জাতিক:স্বর্ণা-তৌহিদ-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।