কামরুল হাসান : বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে মালদ্বীপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, এমপির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত H.E. Shiuneen Rasheed-এর এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে মালদ্বীপের সফলতা তুলে ধরে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে মালদ্বীপের কারিগরি সহায়তা ও জ্ঞান বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
দুই দেশের মধ্যে পর্যটন খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে— পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ দক্ষতা বৃদ্ধি, যৌথ বিনিয়োগ ও প্রকল্প গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ —এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হতে পারে।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সরকার পর্যটন খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে এই খাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। সেই বিবেচনায় মালদ্বীপের মতো সফল পর্যটননির্ভর দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত Shiuneen Rasheed বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে মন্ত্রীও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সার্বিকভাবে, এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা, যা ভবিষ্যতে পর্যটন খাতে টেকসই উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।